বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে চলছে এ প্রকোপ। চারটি ইউনিয়নের ছোট এ উপজেলা হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে গড়ে ৪০ জন ডায়রিয়া রোগী। এ ছাড়া জরুরি ও বহির্বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছে প্রতিদিন আরও ৫০ থেকে ৬০ জন। শয্যাসংকটে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় ঠাঁই নিতে হচ্ছে রোগীদের। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ চিকিৎসকদের কাছে প্রতিদিন আরও শত শত রোগী চিকিৎসা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যাদের অবস্থা খারাপ তাদের হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন গ্রামীণ চিকিৎসকরা। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, রমজানে ভেজাল তেলে তৈরি খাবার ইফতার ও সাহরিতে খাওয়া এবং দূষিত পানি পানে এ সময়ে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে বলে হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে ৩৮ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা। মহিলা ওয়ার্ডেও অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি রয়েছে ডায়রিয়া আক্রান্তরা। এসব রোগীর বেশির ভাগই বয়স্ক নারী-পুরুষ। মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন উপজেলার উত্তর তাফালবাড়ী গ্রামের রাহিলা বেগম (৫০) ও নলবুনিয়া গ্রামের মানবর বেগম (৫৫) জানান, বুধবার তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের দিন সন্ধ্যায় ইফতারি খাওয়ার পর রাতেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন তারা।
হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার রেবা রাণী দেবনাথ জানান, অন্যান্য বছর এ সময় হাতে গোনা দুই-চারজন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হতো। কিন্তু এ বছর এত চাপ যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ রোগীর চাপ তো আছেই। শয্যা-সংকুলান না হওয়ায় বারান্দায় বিছানা করে থাকছে ভর্তি রোগীরা।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিপ্লব সাধক জানান, বিকাল হলে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়ে। বেশির ভাগই খারাপ অবস্থায় আসায় তাদের ভর্তি করা হয়। এ সময় ডায়রিয়া রোগীর এত প্রকোপ অন্যান্য বছর দেখা যায়নি। শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. আশফাক হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে গড়ে ১০০ জনই ডায়রিয়া আক্রান্ত। এ বছর হঠাৎ ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। যা এর আগে দেখা যায়নি। আবহাওয়ার পরিবর্তন, লবণাক্ত ও দূষিত পানি পান এবং রমজানে ভেজাল তেলে তৈরি খাবার খেয়ে বয়স্করাই বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি পানি ও খাবার গ্রহণে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে যে পরিমাণ ওষুধ ও স্যালাইন মজুত আছে তাতে এক সপ্তাহ চলবে। রোগীর চাপ আরও বাড়লে চিকিৎসায় সংকট দেখা দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।