প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আমফান ও রেমালে বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের সুন্দরবন-সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঝাপালি, পশ্চিম দুর্গাবাটি, পূর্ব দুর্গাবাটি, দাতিনাখালিসহ পাঁচটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজে বাধা প্রদান ও চাঁদাবির ঘটনায় কাজ বন্ধ হয়েছে। গতকাল সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর রাদ করপোরেশনের কর্মকর্তা আবদুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল রানা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আর রাদ করপোরেশন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী যৌথ চুক্তির মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকার জাইকার অর্থায়নে পাওবির-১ এর শ্যামনগর উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ পেয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সেখানে কাজ চলমান রাখে। গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল হাজি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেলে প্রকল্পের অফিসের মালামাল লুটপাটসহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ১১ সেপ্টম্বর শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযুক্ত বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চার একর জমি ইজারা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে প্রকল্পের কাজ নিয়ে আমার চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছেও ক্ষতি পূরণের জন্য আবেদন করলে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বলেন। তারা সেটি না করে চাঁদার দাবিতে আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’