সিরাজগঞ্জের এক ট্রাকচালককে আটকের পর পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের দুই থানার সাবেক ৩ পুলিশ পরিদর্শকসহ ১৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ট্রাকচালক রোকন মোল্লা (৩৬) বাদী হয়ে মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা আমলি আদালতে মামলাটি করেন। এতে ৬ জনের নাম উল্লেখ ও ৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। রোকন মোল্লা পাবনার ফরিদপুর উপজেলার নেছরাপাড়া এলাকার রহমত মোল্লার ছেলে।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার সাবেক ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম, সলঙ্গা থানার সাবেক ওসি এনামুল হক, সলঙ্গা থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাজউদ্দিন আহমেদ, উল্লাপাড়া থানার সাবেক এসআই আবদুস সালাম, সলঙ্গা থানার সাবেক এসআই মনসুর রহমান ও এএসআই আবদুল কুদ্দুস।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। পরবর্তী সময়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ মে রাত ১টার দিকে ট্রাক নিয়ে চালক রোকন মোল্লা বগুড়া থেকে পাবনা যাওয়ার পথে পাবনা-নগরবাড়ী মহাসড়কের উল্লাপাড়ার কাওয়াক মোড়ে রাত্রিকালীন ডিউটিরত পুলিশের একটি পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার তৎকালীন ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর ইসলাম ট্রাকচালক রোকন মোল্লার দিকে রিভলভার তাক করলে ভয়ে চালক ট্রাকটি ঘুরিয়ে সিরাজগঞ্জ রোড হাটিকুমরুলের দিকে যেতে থাকেন। পুলিশের পিকআপও তার পিছু নেয়। সংবাদ পেয়ে সলঙ্গা থানার এ বিষয়ে আসামি উল্লাপাড়া থানার সাবেক ওসি (বর্তমানে রাজবাড়ী জেলায় রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘মামলার বিষয়টি শুনেছি। বাদী একজন আন্তজেলা ডাকাত দলের নেতা। তার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয় জেলায় কমপক্ষে ২৮টি মামলা রয়েছে। ঘটনার দিন ডাকাতির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করতে পায়ে গুলি করা হয়েছিল।’
মামলার অপর আসামি সলঙ্গা থানার তৎকালীন ওসি (বর্তমানে পাবনার সিআইডিতে কর্মরত) এনামুল হক মোবাইল ফোনে বলেন, ‘রোকন মোল্লা একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত। ঘটনার দিন সে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ডাকাতি করতে এসেছিল। পালিয়ে যাওয়ার সময় সে কর্তব্যরত একদল পুলিশকে ট্রাকের নিচে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরে বাধ্য হয়ে তাকে পায়ে গুলি করা হয়েছিল।’