পিঁয়াজ খেতে ‘য়োকরাল’ নামক ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে অর্ধশত বিঘা জমির পিঁয়াজ খেত পচে নষ্ট হয়েছে মুজিবনগরের কৃষকদের। এতে পথে বসার উপক্রম উপজেলার অন্তত অর্ধশত চাষির। কৃষকরা বলছেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পরামর্শে পিঁয়াজের ছত্রাকজনিত রোগ থেকে বাঁচতে য়োকরাল প্রয়োগ করে পিঁয়াজ খেত নষ্ট হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার পিঁয়াজ চাষিরা পিঁয়াজের পচন রোধে স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের য়োকরাল নামক ছত্রাকনাশক জমিতে প্রয়োগ করেছিলেন। ওই ছত্রাকনাশক প্রয়োগের কয়েকদিনের মধ্যেই পিঁয়াজ গাছ হলুদ হয়ে পচন শুরু হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে পিঁয়াজের গাছ। গাছের কলি হলুদ হয়ে চুপসে যাচ্ছে। ডগা শুকিয়ে লুটিয়ে পড়ছে মাটিতে। পাশের জমির পিঁয়াজ গাছ বড় হয়ে গেলেও আক্রান্ত জমির পিঁয়াজ গেছে মাটির সঙ্গে নুইয়ে। পিঁয়াজ চাষিদের এমন দশা দেখা গেছে মুজিবনগরের নাজিরাকোনা, শিবপুর, ভবরপাড়া, কেদারগঞ্জ, মানিকনগর গ্রামের এলাকার বিভিন্ন মাঠের অর্ধশতাধিক কৃষকের। এতে কৃষদের ক্ষতি হবে প্রতি বিঘা জমিতে কয়েক লাখ টাকা। অনেকেই ধারদেনা করে পিঁয়াজ আবাদ করে পড়েছেন বিপাকে। এ বছর পথে বসতে হবে তাদের। কিটনাশক কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষক আবুল কালাম জানান, য়োকরাল ছত্রাকনাশক আমরা প্রতিবার দিই। এবার কী কিটনাশক দিয়েছে আমাদের খেতের পিঁয়াজ একদম ঝলসে গেছে। কৃষক মজনু বলেন, এ বিষ দিয়ে আমাদের অনেক কৃষক পথে বসেছেন। প্রতি কৃষকের কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হবে। এ ক্ষতি পূরণের টাকা কে দেবে? স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ী জব্বারুল ইসলাম জানান, এর আগে য়োকরাল ছত্রাকনাশক প্রয়োগে পিঁয়াজ চাষিরা ভালো ফলাফল পেয়েছে। কিন্তু এবারের চালানে যে প্যাকেট এসেছে তা দিয়ে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের মুজিবনগর এরিয়ার টেরিটরি অফিসার বলেন, এবার কৃষকদের পিঁয়াজ পুড়ে গেছে। আমাদের কাছে অন্তত ২০ জন কৃষক অভিযোগ করেছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, বিষযটি সরেজমিন ক্ষতিয়ে দেখা হবে।