দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর ঢেকে গেছে ময়লা-আবর্জনায়। দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। ছাড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও রোগ-জীবাণু। হাসপাতালে আসা রোগীদের বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ালে ধোঁয়ায় রোগীর সমস্যা হতে পারে। এখানে বর্জ্য পোড়ানোর আধুনিক পদ্ধতি না থাকায় আবর্জনা ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্বাস্থ্য কপ্লেক্সের পাশেই রাখা হয়। সপ্তাহে দুই দিন পৌরসভার গাড়ি এসে এগুলো নিয়ে যায়। আমাদের জনবলসংকট রয়েছে। ২ লাখ মানুষের জন্য একটি মাত্র সরকারি হাসপাতাল। ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, যেখানে সেখানে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলা যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এসব বর্জ্য সংরক্ষণ অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পোড়ানোর পর অবশিষ্ট অংশ পৌরসভা সংগ্রহ করে ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে ফেলবে। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস জানান, চিকিৎসাবর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলার কথা নয়। মূলত এগুলো ইনসিনারেশনের (আধুনিক পদ্ধতি) মাধ্যমে ধ্বংস করা উচিত। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ইনসিনারেশন ব্যবস্থা না থাকায় সনাতন পদ্ধতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্জ্যরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সরেজমিন দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাস্টবিন থাকলেও তার পাশেই খোলা স্থানে ফেলা হচ্ছে চিকিৎসাবর্জ্য। এ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বর্জ্যগুলো কুকুর ও মুরগি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিচ্ছে। মশা-মাছি ভনভন করছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীসহ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদকসেবীরা অনেকে সেখান থেকে ইঞ্জেকশনের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে ব্যবহার করছে মাদকসেবনের কাজে, যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালবর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলায় হেপাটাইটিস বি, সি কিংবা এইডসসহ মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলায় একটি সরকারি হাসপাতাল, চারটি ক্লিনিক এবং ১৩টি প্যাথলজি রয়েছে। এর মধ্যে কারও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এ ছাড়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের নবায়নকৃত লাইসেন্স নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের নেই স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও। ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীর স্বজন আবদুল মালেক জানান, হাসপাতালের ভিতর খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ হওয়ায় ছড়াতে পারে নানা রোগ-জীবাণু। কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর নেই।