দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে পিরোজপুরের কচা নদীর চরে গড়ে ওঠা পল্লীর শুঁটকি। কোনো রাসায়নিক ব্যবহার না করে তৈরি এ শুঁটকির চাহিদা থাকায় বাড়ছে উৎপাদনও। শুধু দেশে নয়, বাইরেও রয়েছে এখানকার শুঁটকির কদর। কচা নদীর চরে পল্লীতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হয় ঢেলা, ছুরি, লইট্টা, চাপিলাসহ ৩৫ প্রজাতির মাছের শুঁটকি। এ পল্লী ঘিরে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের। পিরোজপুরের শুঁটকিপল্লীতে শীত মৌসুমেই ৯-১০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়; যার বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। এ পল্লীতে সার্বক্ষণিক কাজ করেন অর্ধশত শ্রমিক। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ জড়িত ৫ শতাধিক লোক। স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী কামাল শেখ জানান, পিরোজপুরের পাড়েরহাট বন্দর বঙ্গোপসাগরের খুব কাছাকাছি। এখানের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের জেলেরা সাগর থেকে মাছ ধরে সরাসরি নিয়ে আসেন এ বন্দরে। শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনে শুঁটকি পল্লীতে এনে ধুয়ে কেটে রোদে শুকান। প্রকারভেদে মাছ শুঁটকি করতে তিন থেকে আট দিন লাগে। প্রতি কেজি শুঁটকি বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, পিরোজপুরের শুঁটকিপল্লীর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিকভাবে তদারকি করলে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে এখানে।
পিরোজপুরে সামুদ্রিক মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় জমে উঠছে শুঁটকি ব্যবসা। এ পল্লী থেকে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে রপ্তানিমুখী সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি তৈরি ও উন্নয়ন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটি কার্যকর হলে এখানেও অধুনিক পদ্ধতিতে নিরাপদে শুঁটকি উৎপাদন করা যাবে।