আসছে পবিত্র মাহে রমজান। মুসলিম সম্প্রদায়ের সিয়াম সাধনার মাস। এ মাসে হরেক রকম ইফতারির পাশপাশি মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে তরমুজ। সে কথা মাথায় রেখে এবার রাঙামাটির চাষীরা আগাম চাষাবাদ করেছে তরমুজের। ফলনও হয়েছে বাম্পার।
রোজাদার মুসলিমের হাতে তরমুজ তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়ের চাষীরা। পাহাড়ের মাটিতে উৎপাদিক এ সব তরমুজ দারুন মিষ্টি আর রসলো। তাই চাহিদাও বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির ৬টি উপজেলা বরকল, লংগদু, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়িতে এবার তরমুজ চাষ হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আবাদও হয়েছে আশানুরূপ। কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমি ও পাহাড়ের টিলায় মৌসুমী সবজির পাশপাশি করা হয় তরমুজ চাষ। পাহাড়ের উৎপাদিত তরমুজ দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও দারুন মজাদার। রসালো পাহাড়ের তমুজের চাহিদা সমতলে বেশি। প্রতি বছর স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এসব তরমুজ বাজারজাত করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। তাই ভাল দাম পেয়ে লাভবান হয় কৃষকরা।
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বোরুনাছড়ি ইউনিয়নের তরমুজ চাষী নূর উদ্দীন বলেন, রমজানে তরমুজের চাহিদা বেশি থাকে। তাই এবার আমরা তরমুজের আগাম চাষাবাদ করেছি। এরই মধ্যে তরমুজ বাগান ফলে ফুলে ভরে গেছে। রমজানের প্রথম সাপ্তাহে তরমুজ বাজারজাত করা যাবে আশা করছি।
একই কথা জানালেন শাহানাজ বেগম। তিনি বলেন, শীতকাল শেষ। তাই এখন আর শীতের সবজি চাষাবাদ করছি না। একই পাহাড়ে এখন তরমুজের চাষাবাদ করা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি এখনো কমেনি। তাই উচু পাহাড়ের ঢালে এবার তরমুজ চাষাবাদ করা হয়েছে। ক্ষেতে পানি দিতে একটু সমস্যা হলেও আবাদ কিন্তু ভালো হয়েছে।
চাষীদের তরমুজ চাষে সহায়তা করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ বলেছেন কৃষি কর্মকর্তা।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপযুক্ত আবহাওয়া, আগাম ও উন্নত চাষাবাদের কারণে রাঙামাটির বেশ কয়েকটি উপজেলায় এ বছর ঈর্ষণীয় ফলন হয়েছে তরমুজের। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে তরমুজ বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা।
তিনি আরও বলেন, রাঙামাটিতে প্রায় ২২৮ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। হ্রদের পানি কমলে তা আরও বৃদ্ধিপাবে। আপতত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ১০ হাজার মেট্টিক টন। তবে তা পর্যায়ক্রমে বাড়বে।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন