ভয়াবহ আগুনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত সবুজ পাহাড়ের মেঘের স্বর্গরাজ্য আলোচিত পর্যটন কেন্দ্র রাঙামাটির সাজেক। সে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আর্তনাদ করছে সাজেক নিয়ে স্বপ্নবুনা ও জীবিকাযাপন করা মানুষ। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন সেখানকার পর্যটন শিল্পে জড়িত ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে কীভাবে এ আগুনের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্যও পায়নি ফায়ার সার্ভিস। এখনো নির্ধারণ করা হয়নি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। তবে সাজেক ভ্রমণের নিরুৎসাহিতকরণের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভয়াবহ এ আগুনের ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাঙামাটি সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের সভাপতি সুপনা দেব বর্মণ বলেন, এমন ঘটনা কেউ কখনো আশা করে না। কী থেকে কী হলো কিছু বোঝার আগেই যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার মতো হয়ে গেছে সাজেক। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল কেউ কোনো জিনিসপত্র উদ্ধার করতে পারেনি। হোটেল মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্টসহ টাকা-পয়সাও আগুনে ছাই। যাদের ক্ষতি হয়েছে তারা হয়তো আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। পারলেও অনেক কষ্ট হবে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামান বলেন, সাজেক ভ্রমণের নিরুৎসাহিতকরণ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পর্যটকরা চাইলে সাজেক ভ্রমণ করতে পারবেন। সাজেকে আগুনের ঘটনার তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। পর্যটকরা নিরাপদে আছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল রিসোর্ট ও মোটেলের পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থাসহ খাবার ও সহায়তা দিয়েছে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে হঠাৎ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালির একটি রিসোর্টে আগুন লাগে। মুহূর্তে আগুন দানবে রূপ নেয়। চোখের সামনে সব রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকান ও স্থানীয়দের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। ছাই হয়ে যায় সাজেকের ৩১টি রিসোর্ট, ৩৫টি বসতঘর, ৭টি রেস্টুরেন্ট ও ১২টি স্থানীয়দের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের পাহাড়ে। পুড়ে যায় বনজঙ্গল।