জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেছ উর রহমান বলেছেন, যেসব কর্মকর্তার দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ব্যবস্থা নেবে। ২০১৪ ও ১৮ সালে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা যেসব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন; তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে, শুধু তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিনিয়র সচিব এ কথা জানান।
কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ডিসিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই মধ্যে ৬৫ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে।
সিনিয়র সচিব বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের নিচে তাদের ওএসডি করা হয়েছে। আর যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪৩ জনকে (ডিসি) ওএসডি করেছি। আমরা ২২ জন এরকম যারা ডিসি ছিলেন, তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার আদেশ জারি হয়েছে। এর বাইরে ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা যেসব কর্মকর্তা অবসরে গেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিনিয়র সচিব বলেন, অনেকেই অর্থ-সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন। আমাদের কলিগদের সম্পর্কে অনেক কথা বাজারে প্রচলিত আছে। ৪ কোটি, ৫ কোটি, ৩০ কোটি টাকার খবর আছে অনেকের নামে। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এবং আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে যদি দেখি সত্যি সত্যি ঘটনা আছে, শুধু সেই কেসগুলো দুদকে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, যাদের নামে অপপ্রচার আছে তবে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না, এ রকম কিছুই করেনি; সাময়িক ওএসডি হয়েছেন, তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন, কোনো সমস্যা হবে না। এখানে সরকার বায়াসড (পক্ষপাত) না, সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে কাজটা করবে। যেন একজনও নিরীহ কর্মকর্তা কোনো সাজা বা অসম্মানিত না হন। মোখলেস উর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ভোটের দায়িত্ব পালনকারীদের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার কারও বিরুদ্ধেই অবিচার এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করেনি। রাষ্ট্রের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শুধু সেটাই নেওয়া হয়েছে। চারজন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে। সেই কমিটিতে এগুলো বিশ্লেষণ হবে। উপদেষ্টা পরিষদের কমিটিতে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। অপরাধ অনুযায়ী ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হবে। বায়াসড কিংবা কোনো কিছুর বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হবে না। সব সিদ্ধান্ত হবে নিয়মনীতির মাধ্যমে।
এবার বাধ্যতামূলক অবসরে চার ডিআইজি : পুলিশের চার উপমহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখা-১ এর সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়। অবসরে পাঠানো ডিআইজিরা হলেন- অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটে কর্মরত মো. নিশারুল আরিফ, নৌপুলিশে কর্মরত মো. আবদুল কুদ্দুছ আমিন, হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত মো. আজাদ মিয়া এবং আমেনা বেগম। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নম্বর আইন)-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে। তবে বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (সাবেক ডিসি) মধ্যে যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের নিচে তাদের ওএসডি করা হয়েছে। আর যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে ৪৩ জনকে (ডিসি) ওএসডি করা হয়েছে। ২২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের সেই সময়ে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করাদেরও অবসর দিচ্ছে সরকার। গতকাল বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এদের মধ্যে আমেনা বেগম ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় নরসিংদীর এসপি ছিলেন। নিশারুল আরিফ রাজশাহীর ডিআইজি ও সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় আজাদ মিয়া কক্সবাজারে ও আবদুল কুদ্দুস আমিন গোপালগঞ্জের এসপি ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র মতে, আরও কয়েকজন কর্মকর্তা অবসরে পাঠানোর তালিকার কাজ চলছে।