ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাত বন্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠা মানে ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ করা নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে ইউক্রেনের যে কোনো শান্তিচুক্তি অবশ্যই নিরাপত্তা গ্যারান্টিসহ হতে হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ওয়াশিংটন সফরে স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর ট্রাম্পকে পাশে নিয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এ শান্তি অর্জন মানে ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ হওয়া উচিত নয়। কোনো ধরনের নিশ্চয়তা ছাড়া যুদ্ধবিরতিও হওয়া উচিত নয়।’
ট্রাম্প অবশ্য নিজে থেকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা গ্যারান্টির কথা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনে শান্তিরক্ষার খরচ এবং বোঝা ইউরোপীয় দেশগুলোকেও বহন করতে হবে, শুধু যুক্তরাষ্ট্র এটা করবে না।’ জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘ইউরোপ নিরাপত্তার বোঝা আরও ন্যায্যভাবে ভাগ করার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছে।’ রাশিয়ার আক্রমণের তৃতীয় বার্ষিকীতে আলোচনা আরও এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা প্রথম ইউরোপীয় নেতা হচ্ছেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ‘আমার দৃষ্টিতে একজন বিশেষ মানুষ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ম্যাক্রোঁ এবং ট্রাম্পের মধ্যকার বৈঠকে ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়া এবং ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘উভয় নেতা একটি দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চান।’ তিনি ঘোষণা দেন, ইউরোপ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত। এ ছাড়া ইউরোপ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে প্রস্তুত বলেও জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য একটি সম্ভাব্য চুক্তির গ্যারান্টি হিসেবে ইউক্রেনে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে ‘রাজি’ আছেন। দুই নেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেছেন। মূলত ট্রাম্প সম্প্রতি ইইউর বিরুদ্ধে ব্যাপক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
পৃথক এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেন নিয়ে তাদের পরিষ্কার মতপার্থক্য জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধবিরতি অর্জনে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা নিয়ে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে স্বৈরশাসক হিসেবে অভিহিত করেন, কিন্তু তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে স্বৈরশাসক বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক্রোঁ বলেন, এটা পরিষ্কার যে এ সংঘাতে রাশিয়া হচ্ছে আগ্রাসী। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতির জন্য আশা প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।