ইংরেজিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা তথা দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আদেশ জারি করেছেন। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই স্বাধীনতা লাভের আড়াই শত বছর পর এমন আদেশে অবশ্য ফেডারেল প্রশাসনের কোনো কাজকর্মেই পরিবর্তন আসবে না। কারণ, অনেক আগে থেকেই ইংরেজি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রচলিত রয়েছে। তবে এ আদেশ জারির পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে ধারণা করছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী মনোভাবের নগ্ন প্রকাশ ঘটছে। অর্থাৎ ইংরেজি জানে না এমন বিদেশিদের অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় বড় একটি প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা দিতে পারে। স্মরণ করা যেতে পারে, অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ স্টেটের দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে ইংরেজি।
এ আদেশ জারিকালে হোয়াইট হাউজ জানায়, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ইংরেজিকে স্বীকৃতি দেওয়া কেবল যোগাযোগকে সহজতর করবে না বরং জাতীয় মূল্যবোধকে আরও সুসংহত ও জাগ্রত রাখবে। আর এভাবেই দক্ষ একটি সমাজ তৈরির পথ সুগম হবে। আমেরিকানরা যে জাতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ—তাও দৃশ্যমান হবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমানে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আমেরিকান বাড়িতে কেবল ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। প্রায় ৪২ মিলিয়ন মানুষ স্প্যানিশ এবং তিন মিলিয়ন মানুষ চীনা ভাষায় কথা বলেন। এজন্যে অভিবাসী অধ্যুষিত স্টেট ও সিটিসমূহের শিক্ষাসমূহে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্প্যানিশ, চীনা, হিন্দি, বাংলা, আরবি, উর্দু-ও রয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক নির্বাচনসমূহের ব্যালটও বাংলাসহ এসব ভাষায় ছাপানো হয়েছে।
ইংরেজিকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ট্রাম্পের এ আদেশকে আদালতে চ্যালেঞ্জের আভাস দিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা কংগ্রেসম্যান হাকিম জ্যাফরি বলেন, আরও অনেক আদেশের মতো এটিও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী হিসেবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টরা ভাবতে শুরু করেছেন।
যুবসমাজের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ইউনাইটেড উই ড্রিম’ নামক সংগঠনের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর এনাবেল মেনডোজা বলেন, এসব করা হচ্ছে সংবিধানের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। তাকে আমরা কখনোই স্বাগত জানাবো না। আসলে ট্রাম্প এসব করছেন কৃষ্ণাঙ্গ এবং বাদামি রঙের আমেরিকানদের টার্গেট করে।
আদেশটিতে স্বাক্ষরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, আমাদের ভাষা হচ্ছে ইংরেজি, কখনোই স্প্যানিশ নয়।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল