ভারতের উত্তরাখণ্ডের বদ্রিনাথ মন্দিরের পাশে চামোলি জেলায় তুষারধসের ঘটনায় চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভারত-চীন সীমান্তের কাছে মানা গ্রামে এই তুষারধসের ঘটনা ঘটে। এতে দেশটির সীমান্ত সড়ক সংস্থার (বিআরও) ৫৫ জন কর্মী তুষারধসে আটকা পড়েন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, এদের মধ্যে ৫০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি পাঁচ কর্মীকে উদ্ধারে কাজ চলছে।
দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এএনআই জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে বিআরও শ্রমিকদের ক্যাম্পে এই তুষারধসের ঘটনা ঘটে। এতে আটটি কনটেইনার এবং একটি শেডের ভেতরে মোট ৫৫ জন কর্মী চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পরেই ৬০ থেকে ৬৫ জন উদ্ধারকর্মী অভিযানে অংশ নেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয় বলে জানান উদ্ধারকর্মীরা।
চামোলির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ তিওয়ারি বলেন, "একটি বিশাল তুষারধস ক্যাম্পের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ৫৫ জন কর্মী আটকা পড়েন। সেখানে বিআরও-র মোট ৫৭ জন কর্মী কাজ করছিলেন। এর মধ্যে দুই কর্মী ছুটিতে ছিলেন। দুর্ঘটনার পরেই ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।"
তবে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে শুক্রবার উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয় এবং রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
শনিবার আবহাওয়ার উন্নতি হলে উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়।
দেরাদুনের প্রতিরক্ষা দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে মোট ছয়টি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিনটি চিতা হেলিকপ্টার, ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুটি চিতা হেলিকপ্টার এবং একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার রয়েছে।
এদিকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি আকাশপথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আহত এক শ্রমিকের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, "চামোলি জেলার মানার কাছে তুষারধস কবলিত এলাকার পরিদর্শন করে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছি।"
তিনি আরও জানান, "কর্মকর্তাদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের সরকার শ্রমিকদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।"
তথ্যসূত্র: নিউজ ১৮
বিডি প্রতিদিন/আশিক