জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা একটি অহিংসার বাংলাদেশ দেখতে চাই। জনগণ এমন মানুষকে ভোট দিতে চায়, যারা সবার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জামায়াত এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজনে যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত। কক্সবাজার সরকারি কলেজ মাঠে গতকাল জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিরাট জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কারাবন্দি জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তি দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি যে একজন নির্দোষ মানুষ ছিলেন সেটা ঘোষণা করে আমাদের বুকে ফেরত দিন।’
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে শাপলা চত্বরে আলেমদের হত্যাকারী উল্লখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এ দেশের একজন কুখ্যাত পুলিশ অফিসার যে পালিয়ে যাওয়ার পরে তার হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তির খবর পত্রপত্রিকায় এসেছে। শাপলা চত্বরে নিরীহ আলেম-ওলামা, এতিম ও হাফেজদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে দম্ভ প্রকাশ করেছিল সেই বেনজীর এখন দেশের বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করছে। পুলিশ ভাইদের বলব, ওই ষড়যন্ত্রকারীর ফাঁদে পা দেবেন না। আপনারা আপনাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন। যেন সে আপনাদের ঝুঁকিতে ফেলতে না পারে। সতর্ক থাকুন এবং ওর প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করুন।’
২৪-এর গণহত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে বিচার তারপর অন্য কাজ। এ বিচার না হলে শহীদদের আত্মার সঙ্গে বেইমানি করা হবে। যারা বুক চিতিয়ে কথা বলার, মর্যাদার সঙ্গে চলার পরিবেশ এনে দিয়েছে আমরা তাদের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না।’ চাঁদাবাজির কারণে জিনিসের দাম বেড়ে যায়, এ জন্য একজন সাধারণ মানুষও কষ্ট পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি চাই না।’ ভিক্ষা চাঁদাবাজির চেয়ে ভালো উল্লখ করে তিনি বলেন, ‘ভিক্ষা করুন, চাঁদাবাজি করবেন না। বাংলাদেশ যত দিন দুর্নীতিমুক্ত হবে না, তত দিন আমাদের যুদ্ধ চলবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করে প্রত্যেক জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কিছুই হয়নি বলব না। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। দেশবাসীর আকাক্সক্ষা পূরণ হয়নি।’
অনেকে বিচারপতির আসনে বসে বিচারকের মর্যাদা ধরে রাখতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ১১ জন শীর্ষ জামায়াত নেতাকে ঠান্ডা মাথায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।