কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর। চার যুগেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৪’-এ ভূষিতও হয়েছেন তিনি। আজ নারী দিবসে গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল
কেমন আছেন?
আগের চেয়ে একটু ভালো। হালকা হাঁটতে পারি; তবে আর কোনোদিনই দৌড়ঝাঁপ করা বোধ হয় সম্ভব হবে না।
কখনো নারী হিসেবে একা অনুভব করেছেন?
নারী হিসেবে আমি কখনো একা ফিল করি না। এখনো করছি না। আমি হতাশায় বিশ্বাস করি না। কারণ আমার জীবনে যখন একবার চাকচিক্য থাকে, সকাল হলে রাত হয় রাত হলে সকাল হয় আমি এটিকে বিশ্বাস করি। সূর্য যখন থাকবে না চাঁদ উঠবে, চাঁদ যখন থাকবে না সূর্য উঠবে। আমার জীবনেও তা হতে পারে। আমি মেনে নিই। তাই আমার মধ্যে হতাশা বলে কোনো জিনিস নেই। আমি সবসময় প্রফুল্ল থাকার চেষ্টা করি। আমি সবকিছুর পরে রাতের বেলায় ওপরওয়ালাকে ধন্যবাদ জানাই। জীবনে আমার পাওয়ার ভাগটাই বেশি, না পাওয়ার ভাগ অনেক কম।
চার যুগেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন...
হঁ্যাঁ, ছোট থাকতেই অভিনয় করি। অভিনয়টা এখন জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে। এ জগতের সবাই আমার পরিবারের মতো। অনেকবার মিডিয়া ছাড়তে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। ছাড়া যায় না। তাই এখনো করছি অভিনয়। এখানে আছি বলেই সবাই আমাকে চেনে। দেশের রিকশাওয়ালাও আমাকে ডলি জহুর নামে চেনে, ডাকে। আমি খুবই প্রাউড ফিল করি। আমি দেশের বাইরে স্যাটেল হতে চাইলে অনেক আগেই হতে পারতাম।
কিন্তু কখনো চাইনি। শুধু অভিনয়ের জন্য নয়, সবার ভালোবাসার ফলে অভিনয় করি। এখানে সবার সঙ্গে দেখা হয়। অনেক আনন্দ লাগে। পরিচিত মুখদের ভোলা যায় না। আমি আসলে সবার মায়ায় কাজ করি। যদিও আমি বেড়াতে খুবই পছন্দ করি। তবে কোথাও গিয়ে থাকতে হবে, সেটা ভালো লাগে না। এ দেশের চেয়ে কি বড় কোনো দেশ আছে? কোথাও গেলে দেশের মানুষের মতো কি কেউ চিনবে আমাকে? কখনো না।
মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে কেমন লাগে?
মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের সময় প্রচণ্ড ইমোশনাল হয়ে পড়ি। আসলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নাটক-সিনেমায় চরিত্র করতে হয়। মায়ের চরিত্রে অনেকবার অভিনয় করেছি। এখনো করছি। নাটকে বা সিনেমায় মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অনেক শিল্পী আমাকে মা ডাকেন। জন্ম না দিয়েও আমি মা। এটা তো আবেগের বিষয়। একই পরিবার আমরা। কতটা শান্তি পাই তা বলে বোঝাতে পারব না।