বর্তমানে সিনেমার ব্যবসা হয়ে গেছে শাকিব খান ও ঈদকেন্দ্রিক। ঈদ ছাড়া অন্য সময় দেশি মানসম্মত ছবি পাওয়া যায় না। ফলে সারা বছর সিনেমা হল মালিকদের লোকসান গুনতে হয়। আর ঈদেও সব স্থানীয় ছবি ভালো ব্যবসা করে না। ফলে বিদেশি ছবি আমদানির ওপর যে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে সরকার, ঈদের আগে তা প্রত্যাহার না করলে আগামী রোজার ঈদ থেকে সিনেমা হল বন্ধ করে দেবেন মালিকরা। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির।’ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস।
সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির কোনো নির্বাহী কমিটি নেই তাই চলচ্চিত্র মুক্তিতে কোনো নিয়মকানুন নেই। যে যেভাবে খুশি চলচ্চিত্র মুক্তি দিচ্ছে, তাই বাধ্য হয়ে এ অনিয়ম দূর করতে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি রিলিজ কমিটি গঠন করেছে। সম্প্রতি দেশি সিনেমা মুক্তি ও বিদেশি সিনেমা আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এক সাধারণ সভায় ত্রিশেরও অধিক সিনেমা হল মালিক এক হয়েছেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ও সিনেমা মুক্তিতে শৃঙ্খলা আনতে ‘ফিল্ম রিলিজ কমিটি’ গঠন করা হয়। মুক্তি পাওয়া সিনেমার মধ্যে কোনটি ভালো চলবে সেটি বিবেচনায় নিয়েই এখন থেকে সিনেমা হলে প্রদর্শন করবে। আর এ সিনেমা বাছাইয়ের কাজ করবে তৈরি করা রিলিজ কমিটি। এ কমিটি সিনেমা আমদানির বিষয়েও কাজ করবে। সুদীপ্ত কুমার দাস আরও বলেন, সদ্য বিদায়ি তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতিবাচক মনোভাবের কারণে বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমরা প্রদর্শকরা এ অবস্থায় নতুন তথ্য উপদেষ্টার জন্য অপেক্ষা এবং আশা করছি বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানি করার সিদ্ধান্ত দিয়ে তিনি দেশের দুরবস্থাগ্রস্ত সিনেমা হল ও হল মালিকদের বাঁচিয়ে তুলবেন। যদি তা না হয় তাহলে আমরা বাধ্য হয়ে আগামী রোজার ঈদ থেকে সিনেমা হল বন্ধ করে দেব। কারণ, ঈদ ছাড়া বছরের অন্য সময় সিনেমা চালিয়ে স্টাফদের বেতন তো দূরের কথা বিদ্যুৎ বিলও উঠে না।
এদিকে রিলিজ কমিটি প্রসঙ্গে সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি। এটা বিবেচনাধীন রয়েছে। হয়তো শিগগিরই অনুমোদন পেয়ে যাব। তবে আমাদের যেহেতু লাইসেন্স আছে সেক্ষেত্রে আমাদের আইনি অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।’
লায়ন সিনেমাস-এর কর্ণধার মির্জা আবদুল খালেক বলেন, ‘প্রেক্ষাগৃহের মালিক ও প্রদর্শক সমিতির পক্ষ থেকে সিনেমার মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই রিলিজ কমিটি করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা ৫০ জন মালিক লিখিতভাবে এক হয়েছি। তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েই পাঁচ থেকে সাতজনের কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। এখন থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশে সিনেমা মুক্তি দেওয়া হবে। কমিটির কাজ হবে সিনেমা সিলেকশন করা, মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, ওটিটির জন্য নির্মিত কনটেন্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিতে বাধা দেওয়া এবং সিনেমা আমদানি করা।’ শিগগিরই একটি নীতিমালা তৈরি করে কমিটির ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সের মালিক রোকনুজ্জামান ইউনূস বলেন, ‘আমরা বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে সিনেমা আনব। এনে তা সেন্সর বোর্ডে জমা দেব, সেন্সর বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে সিনেমাটি চলার মতো কি না। সিনেমা ব্যবসা নেই, সারা বছর সিনেমা নেই, ঈদে দু-একটি সিনেমা আসে। আমরা কীভাবে টিকে থাকব? যদি বিদেশি সিনেমা আমদানির অনুমতি দেওয়া না হয় তাহলে সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না সিনেমা হল মালিকদের।’