একজন ভিন্ন ঘরানার অভিনেতা ইরেশ যাকের। সাধারণ প্রথাগত অভিনয়ের বাইরে অভিনয় করেও যে নিজ প্রতিভা চেনানো যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এ তারকা। নাটক, বিজ্ঞাপন, ওটিটি ও চলচ্চিত্র- সব ধারাতেই রেখে চলেছেন সফলতার স্বাক্ষর। তাঁর সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন - পান্থ আফজাল
কেমন আছেন? শুটিং আছে আজ?
ভালো আছি। না শুটিং নেই। আর আমি এখন খুবই কম কাজ করি। গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলে কিছু করা হয়।
টিভি নাটক-ওটিটি প্ল্যাটফরমে ঘুরেফিরে কয়েকজন তারকাই কাজ করছেন...
আপনাদের তো সালমান খান বা শাহরুখ খানকে নিয়ে নালিশ করতে দেখি না! নিশো-অপূর্ব বা মোশাররফ করিমকে নিয়ে এত নালিশ কীসের?
ইরেশ যাকেরকেও তো দর্শক ঠিকঠাকভাবে পর্দায় দেখতে চায়...
ইরেশ যাকেরের যদি ক্ষমতা থাকে, তার যদি সেই এবিলিটি থাকে, প্রতিভা থাকে অথবা মানুষ যদি চায় তাহলে ইরেশ যাকেরকেও আপনারা পাবেন। এখন কথা হচ্ছে অন্যটা। নতুনভাবে চিন্তা করে বা নতুনভাবে কাজ নিয়ে চিন্তা করা যায় কিনা। সেটা অবশ্যই যায়। সেখানে অ্যাক্টরস ইকুইটি, প্রযোজক সমিতি বা চ্যানেলের মালিকরা এ দায় এড়াতে পারেন না।
নতুন কোনো সিনেমা বা ওটিটির কাজ...
বলা যাবে না। বিস্তারিত পরে জানতে পারবেন।
তাহলে অন্য প্রসঙ্গ, অভিনয়ে আসায় বাবা-মায়ের ভূমিকা কতটুকু ছিল?
একবার বাবাকে বললাম, বাবা আমি অভিনয় করতে পারব? বাবা বললেন, না। তোমার এরকম সাইজ, চেহারা দেখলে কেউ-ই কাস্টিং করতে চাইবে না। তো মেনে চুপ করে রইলাম। এরপর মায়ের কাছে তিনবার অডিশন দিয়ে ফেল করি। কিন্তু রতনদা সব সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমিও খুবই কনফিডেন্ট ছিলাম। এরপর রনির ‘চোরাবালি’তে ভিলেনের চরিত্র করেছিলাম।
সিনেমা করে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন...
শিহাব শাহীনের ‘ছুঁয়ে দিলো মন’। এটিতে ভিলেন চরিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলাম।
নায়কের চরিত্র থাকতে কেন নেগেটিভ চরিত্র করতে ইচ্ছা হলো?
সুন্দর চেহারা যাদের তারাই তো হিরো হয়। বাংলাদেশে আপনি দেখতে ভালো হলে হিরো হবেন, না হলে চঞ্চল চৌধুরী হবেন আর তা না হলে ভিলেন।
কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
সব ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চরিত্র যে ধরনেরই হোক না কেন তা যদি স্ক্রিপ্ট পড়ে একসেপ্ট করি তাহলে তাকে রেসপেক্ট করতে হবে। সব ধরনের চরিত্রে অভিনয়েই একটা মজা আছে।
অভিনয়ে আসতে স্ট্রাগল করতে হয়েছে কি?
যে কোনো কাজই তো আসলে ঠিকঠাক মতো করতে হবে। ভালো কাজ করতে হলে সব প্রফেশনেই চাপ থাকে।
বর্তমান নাটক নিয়ে কী বলবেন...
এখন আসলে নাটক পাইকারি বাজার হয়ে গেছে। ভালো কাজের কম্পিটিশন নেই। কোনোভাবে কাজ শেষ করাটাই মুখ্য হয়ে গেছে।