জীবন্ত কিংবদন্তি বরেণ্য লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত নন। গতকাল দুপুর দেড়টা নাগাদ এ তথ্য জানিয়েছেন ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালের এমডি ডাক্তার আশীষ কুমার চক্রবর্তী। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, শনিবার দিবাগত রাত থেকে (রবিবার) এখন পর্যন্ত তাঁর অবস্থার ১৫ ভাগ উন্নতি হয়েছে। শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমেছে। আমরা দ্রুত তাঁর ডায়ালাইসিস করার চেষ্টা করছি। তাঁর শারীরিক একাধিক জটিলতা থাকায় চাইলেই সব ব্যবস্থা একসঙ্গে করা যাচ্ছে না। এদিকে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন শুক্রবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিন পরই এলো এ দুঃসংবাদ। এবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের আইসিওতে আছেন লালন সংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন। গত শনিবার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। এ শিল্পীর অসুস্থতার খবরটি প্রথমে নিশ্চিত করেন শিল্পীর স্বামী যন্ত্রসংগীতশিল্পী গাজী আবদুল হাকিম। তিনি জানান, শনিবার ভোরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গাজী আবদুল হাকিম আরও জানান, ফরিদা পারভীনকে এখন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাঁর ফুসফুসে পানি জমেছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। ভর্তির পর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী এ শিল্পীর অবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, ‘তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে তিনি শনিবার ভোরে ভর্তি হয়েছেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাঁকে। তাঁর ফুসফুস আক্রান্ত, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং থাইরয়েডসহ বার্ধক্যজনিত কিছু সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে বক্ষব্যাধি, কিডনি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি। তাঁর অবস্থা কিছুটা জটিল। আমরা ডায়ালাইসিসের পরামর্শ দিয়েছি।’ ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালের দিকে দেশের গান গেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে ফরিদা পারভীন লালনসংগীতে তালিম নেন। ১৯৮৭ সালে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পান। ২০০৮ সালে তিনি জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কারও পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে সিনেমার গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এ শিল্পী। শিশুদের লালনসংগীত শিক্ষার জন্য ‘অচিন পাখি স্কুল’ নামে একটি গানের স্কুলও গড়ে তুলেছেন এ শিল্পী।
সাবিনা ইয়াসমিনের অবস্থা স্থিতিশীল
শুক্রবার রাতে গানের মঞ্চে আর শনিবার সকালে গোসলখানায়। দুবার মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন : আমি আছি থাকব’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানে গাইতে ওঠেন সাবিনা ইয়াসমিন। মাথা ঘুরে পড়ে গেলে সেখান থেকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ১০টার দিকে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শনিবার সকালেও একই ঘটনা ঘটে। সাবিনা ইয়াসমিনের পারিবারিক বন্ধু গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে কণ্ঠশিল্পী দিঠি আনোয়ার জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মাথা ঘুরে গোসলখানায় পড়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেন। বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশ্য সাবিনার গুরুতর কোনো সমস্যা পাননি তারা। পরপর দুবার মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণ কী? চিকিৎসকরা মনে করছেন তার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ আরও কিছু শারীরিক জটিলতা থাকায় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাবিনা ইয়াসমিনকে কদিন পর্যবেক্ষণে রেখে দেখতে চান। সে কারণেই তাঁকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে হাসপাতালের বরাত দিয়ে জানান দিঠি আনোয়ার।