আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরনের মতবিরোধ এবং মতভিন্নতা ক্রমশ প্রকাশ্য হচ্ছে। কোন নির্বাচন আগে হবে- এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ন্যূনতম সংস্কার শেষে সবার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেছে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ চলতি মাসের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। সেটা না হলে রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি সতর্ক করেন। অন্যদিকে জামায়াতসহ কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি করেছে। তারা নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা যাচাই করার জন্য এই প্রস্তাব দিয়েছে বলে দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র কায়েমের ঘোষণা দিয়েছে। দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন সংবিধান সংস্কারে সবার আগে গণপরিষদ নির্বাচন দাবি করেছেন। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতায় তিনি এই দাবি করেন। নির্বাচন নিয়ে এই নানামুখী অবস্থান রাজনীতিতে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। এর ফলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যে ঐক্যবদ্ধ শক্তি লড়াই করেছিল তাদের মধ্যে বিভক্তি এবং ফাটল আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উত্তরণ এক নতুন সংকটে উপনীত হয়েছে।
বিএনপি স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা প্রথমে জাতীয় নির্বাচন চায় এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হবে বলে তারা প্রত্যাশা করে। সম্প্রতি দীর্ঘ সাত বছর পর বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই বর্ধিত সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুজনই সংযুক্ত হন। তাঁরা দুজনই যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আহ্বান জানান। এই বর্ধিত সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চিন্তা থেকে সরে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবার আগে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেছেন। এটা স্পষ্ট যে বিএনপির মতামতের বাইরে গিয়ে যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, তাহলে সেটি রাজনীতিতে একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। বিএনপি শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল, দলটির জনপ্রিয়তাও প্রশ্নাতীত। এই সংকটকালে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।
অন্যদিকে জামায়াতসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল সবার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি করেছে। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠকে তারা এরকম দাবি করে। তবে নির্বাচন বিতর্ক তীব্র হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে। জাতীয় নাগরিক পার্টি দ্বিতীয় রিপাবলিকের দাবি করেছে। অবশ্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গত দুই মাস থেকেই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছে। এই দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তারা সমাবেশের ডাক দেয়। পরে সরকারের আশ্বাসে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়নি। এখন তাদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ পাওয়া ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র পক্ষ থেকে তারা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের দাবি উত্থাপন করেছে। বর্তমান সংবিধান বাতিল করে প্রথমে একটি গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি করেছে এসসিপি।। তাদের এই দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের মতপার্থক্য ও বিতর্ক অনভিপ্রেত নয়। বরং এ ধরনের মতপার্থক্যই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে, বিভিন্ন মতের পক্ষে নানা রকম যুক্তি থাকবে। এর মধ্যে যে যুক্তিটি গ্রহণযোগ্য হবে, দেশের জন্য মঙ্গল হবে সেই যুক্তিতে সবাই একমত হয়ে কাজ করবে, এটাই গণতন্ত্রের শক্তি এবং গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
এখন আমরা দেখতে পারি যে সবার আগে যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয় তাহলে বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা তার লাভ হবে, না ক্ষতি হবে? আমরা যদি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখব যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সবার আগে হলে কতগুলো বড় ধরনের বিপদ আমাদের সামনে আসতে পারে।
সবার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবচেয়ে যে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে, তা হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। এমনিতেই স্বৈরাচারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। দেশে খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ প্রতিনিয়ত ঘটছে। এরকম একটি বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমরা যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগে করি তাহলে পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে পেশিশক্তির দাপট। বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস বলে এ দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সব সময় সহিংসতায় ভরপুর হয়। এ নির্বাচনে প্রচুর প্রাণহানি ঘটে। এই ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত কার্যকর এবং সক্রিয় নয়, সেখানে প্রথমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ফলে জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। এমনকি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের পথযাত্রাও হোঁচট খেতে পারে। দ্বিতীয়ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে প্রচুর একক প্রার্থীর স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। এই নির্বাচন যতটুকু না দলীয় তার চেয়ে বেশি হলো স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা যাচাই। এই নির্বাচন সারা দেশে নিয়ন্ত্রণহীন অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে।
দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। কাজেই প্রথমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের দোসররা, যারা এখনো ঘাপটি মেরে আছে বিভিন্ন স্থানে, তারা সুযোগ গ্রহণ করবে। এই সুযোগ নিয়ে তারা সারা দেশে আবার নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত হবে বলে অনেকে মনে করেন। যেহেতু এখন পর্যন্ত স্বৈরাচারের সব শিকড় সরকার উৎপাটন করতে পারেনি, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে তো নয়, কাজেই এই নির্বাচন হলে পতিত স্বৈরাচার আবার পুনর্বাসিত হবে। স্থানীয় পর্যায়ে তাদের শক্ত ভিত তৈরি হবে।
তৃতীয়ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হলে জুলাই বিপ্লবে যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি, সেই ঐক্যে ফাটল ধরবে। বিভক্তি এবং হানাহানি হবে। রাজনীতিতে আবার সেই পেশিশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটবে এবং একে অন্যকে নিঃশেষ করে দেওয়ার প্রবণতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি কথা সবাইকে মনে রাখা দরকার তা হলো কোনো অবস্থাতেই জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনকারী শক্তিতে ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না। এ কথাটি প্রত্যেকেই বলছেন। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি প্রত্যেকেই একই আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু যে মুহূর্তে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে মুহূর্তে এই ঐক্যে ফাটল ধরবেই। একে অন্যের সঙ্গে হানাহানি এবং কাদাছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হবেই। এই সহিংসতা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। এর ফলে তৃতীয় শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবে।
চতুর্থত আমাদের একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত নয়। এখন পর্যন্ত মাঠ প্রশাসন পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান সম্পন্ন হয়নি। এরকম পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো একটা ব্যাপক আয়োজন যদি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন প্রথম ধাক্কাতেই এক ব্যর্থতার দায়িত্ব ঘাড়ে নেবে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং কর্মক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। এ রকম পরিস্থিতি কাম্য নয়। কারণ নির্বাচন কমিশন যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সক্ষমতার পরিচয় না দেয়, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এটি বাংলাদেশের মূল নির্বাচন অর্থাৎ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলে যে হানাহানি, কাদাছোড়াছুড়ি, অবৈধ অস্ত্রের প্রয়োগ এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটবে, সেখান থেকে দেশকে একটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে স্বস্তির পথে নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা অসম্ভব এবং অবাস্তব ব্যাপার।
অনেকেই মনে করেন যে সবার আগে স্থানীয় সরকার হওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের একটি ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, সহিংস এবং এই নির্বাচন সবচেয়ে দক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনেও সহিংসতাপূর্ণ হতে বাধ্য। তা ছাড়া কেউ কেউ যুক্তি দেখাচ্ছেন যে জনপ্রতিনিধি ছাড়া স্থানীয় সরকারগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে। এ কথা সত্য যে সর্বত্র জনপ্রতিনিধি দরকার কিন্তু সবার আগে জনপ্রতিনিধি দরকার হলো রাষ্ট্র পরিচালনায়। জনগণ প্রজাতন্ত্রের মালিক। আর সে কারণেই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়েই কেবল একটি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব। অন্য কোনোভাবে নয়।
এবার আমরা একটু খতিয়ে দেখতে চাই সবার আগে গণপরিষদ নির্বাচন এবং দ্বিতীয় রিপাবলিকের সম্ভাব্যতা। আমাদের মনে রাখতে হবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার কোনো বিপ্লবী সরকার নয়। সংবিধানের আলোকে এবং সর্বোচ্চ আদালতের মতামত ও সম্মতির ভিত্তিতে গত বছরের ৮ আগস্ট এ সরকার গঠিত হয়। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্য উপদেষ্টাদের শপথ পাঠ করান। কাজেই বর্তমান সংবিধানের আওতায় গঠিত এই সরকারের আর বিপ্লবী সরকারে রূপান্তরের কোনো সুযোগ নেই। তাই এখন দ্বিতীয় রিপাবলিক কায়েম করাও সম্ভব না। বর্তমান সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করাও সম্ভব না। তাহলে এ সরকার অথর্ব হয়ে যাবে। পতিত স্বৈরাচার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের বৈধতা দাবি করার সুযোগ পাবে। তীব্র সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়বে দেশ। ৩১ ডিসেম্বর এ কারণেই জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে পিছিয়ে আসতে হয়েছে। এ কারণেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি নিয়েও তারা এগোতে পারেনি। সংবিধান সংশোধনের বা পরিবর্তনের একমাত্র জায়গা হলো জাতীয় সংসদ। জুলাই বিপ্লবের সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজন সবার আগে জাতীয় নির্বাচন।
৫ আগস্টের পর যদি সংবিধান না মেনে একটি বিপ্লবী সরকার গঠিত হতো, যদি বর্তমান সংবিধান না মেনে জনগণের শক্তিতে দেশ পরিচালিত হতো সে ক্ষেত্রে হয়তো দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র এবং নতুন সংবিধানের দাবি প্রাসঙ্গিক হতো। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেছে। এখন যা কিছু করার তা সংবিধান মেনেই করতে হবে। সংবিধানের আওতায় করতে হবে। এ জন্য জাতীয় নির্বাচন করতে হবে সবার আগে। সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য চাই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ। কাজেই আমি মনে করি সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে বসে কোন নির্বাচন আগে হবে এবং কেন আগে হওয়া দরকার- এই নিয়ে মুক্ত আলোচনা করবে, উন্মুক্ত বিতর্ক করবে এবং একটি যুক্তিনির্ভর সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আর সবাইকে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ সবার আগে।
লেখক : নাট্যকার ও কলাম লেখক
ইমেইল: [email protected]