সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে অনেক ক্ষেত্রে দিশাহীন হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানান কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে সামগ্রিক আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এ পরিপ্রেক্ষিতে গণমানুষের তীব্র সমালোচনা ও ব্যবসায়ীদের জোরালো দাবির মুখে কয়েকটি খাতে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে গেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মোবাইল ফোনে কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহারসহ তথ্যপ্রযুক্তি সেবার ২৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে আগের ২০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেস্তোরাঁর খাবারে বিলের ওপর ১৫ শতাংশের বদলে আগের ৫ শতাংশই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া পোশাক, মিষ্টি, নন-এসি হোটেলসহ বেশ কিছু খাতের ভ্যাটহার কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। ৯ জানুয়ারি চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে, এক অধ্যাদেশে শতাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট এবং শুল্ক বাড়ানোয় জনগণ বিপাকে পড়ে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়ে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাদের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটায় সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের একটা অংশ সামান্য স্বস্তি লাভের আশা করছে। অর্থ উপদেষ্টা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, পোশাকের ওপর বাড়তি ভ্যাট পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে এবিআরের এক কর্তার ভাষ্য- উচ্চমূল্যস্ফীতির চাপে আছে সাধারণ মানুষ। আবার সরকারেরও রাজস্ব আয় বাড়ানো দরকার। তাই কিছু পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে জনসম্পৃক্ত কিছু খাতের ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এনবিআরের ওই পদক্ষেপ ভুল ছিল। ওতে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ত। সরকারের বর্তমান সুবিবেচনা প্রশংসনীয়। কারণ দেশটা ১৮ কোটি মানুষের। এর সরকার, অর্থনীতি, শিল্প-বাণিজ্য- সবই জনগণের। তাদের সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধনই সরকারের কর্তব্য। সেখানে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত শুধরে নেওয়াই সঠিক পন্থা- যদি তাতেই সবার স্বাচ্ছন্দ্য, স্বস্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির দরজা খোলে। বৃহতের সাধনা জাতির। তাকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ পীড়নের বদলে; আকারে-প্রকারে-সমৃদ্ধি অর্জনের অনুকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেওয়া হোক।