বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক এক্সপো ভিলেজ ‘আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশ’-এ শুরু হয়েছে ১৭তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিকমেলা। এতে দেশি-বিদেশি ৮০০টির বেশি কোম্পানির স্টল রয়েছে। চার দিনব্যাপী মেলাটি চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশ’-এ শুরু হওয়া মেলা বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ। মেলায় বাংলাদেশ, চীন, জার্মানি, ভারত, ইতালি, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে। বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) এবং হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়োকার্স ট্রেড অ্যান্ড মার্কেটিং সার্ভিস যৌথভাবে মেলাটির আয়োজন করেছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘এই প্লাস্টিকে ভালো-মন্দ দুটি দিকই রয়েছে। আমাদের করণীয় হচ্ছে ভালো প্লাস্টিককে প্রমোট করা। পরিবেশের জন্য যে প্লাস্টিকগুলো খারাপ তা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। একই সঙ্গে পাটসহ অন্যান্য যে সম্ভাবনাময় পণ্য রয়েছে, এসবের ব্যবহার বাড়ানো। পাশাপাশি যেসব পণ্য প্যাকেজিং ছাড়া ব্যবহার করা যায়, সেগুলো প্যাকেজিং ছাড়াই ব্যবহার করা উচিত।’
সেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘প্লাস্টিক খাত সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, দেশের প্রায় ১২ লাখ মানুষ এই খাতে কাজ করছে। পাশাপাশি এই খাতে ছয় হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একই সঙ্গে এই সেক্টর থেকে বছরে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্লাস্টিক আমাদের দেশে যে প্রবৃদ্ধি করছে তাতে মনে হচ্ছে, এটি আমাদের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠবে।’
সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে প্লাস্টিক ছাড়া কোনো কিছু চিন্তা করা যায় না। মোটামুটি সবকিছুতেই প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়, এমনকি কাপড় তৈরিতেও প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাছ কাটা থেকে বিরত থাকতে প্লাস্টিকপণ্য ভূমিকা রাখছে। মোটকথা একটি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায় প্লাস্টিকের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে।’
দেশের সবচেয়ে বড় ‘এক্সপো ভিলেজ’
বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক প্রদর্শনী কেন্দ্র ‘আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশ’ যাত্রা শুরুর পর থেকে ক্রমেই আয়োজক, উদ্যোক্তা ও দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। এর আয়তন এক লাখ ৩৪ হাজার বর্গফুট। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই বহুমুখী ভেন্যুটিতে একই ছাদের নিচে মেলা, প্রদর্শনী, সমাবর্তন, সেমিনার, এজিএম, করপোরেট রিট্রিট, কনসার্ট, বিয়ে, পরীক্ষার হল, বাইক, কার শোসহ যেকোনো ধরনের ছোট থেকে বড় করপোরেট, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান স্বাচ্ছন্দ্যে করা যাচ্ছে। একই ছাদের নিচে এত বড় জনসমাগমস্থল বাংলাদেশে আর নেই, যেখানে ১০ হাজারেরও বেশি লোক একসঙ্গে সমাগম করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশ’-এ সমাবর্তন ও কনফারেন্সে ১০ হাজার লোক, কনসার্টে ১২ হাজার লোক, বিয়ের অনুষ্ঠানে ৯ হাজার লোকসহ যেকোনো অনুষ্ঠান করা সম্ভব। এই এক্সপো ভিলেজের পাশে রয়েছে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। সার্বক্ষণিক সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এই এক্সপো ভিলেজটি সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
আইসিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) এম. এম. জসীম উদ্দীন বলেন, ‘আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শেড। এখানে শুধু এক্সিবিশন নয়, বিভিন্ন ধরনের সমাবেশ, সমাবর্তন, পরীক্ষার হল, মেলাসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা যেতে পারে। এটি বাংলাদেশ তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শেড।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ