গাইবান্ধার সাঘাটায় পুর্ব আমদিরপাড়া বটতলা নামক স্থানে ভেঙ্গে পরা ব্রিজের ওপর কাঠ-বাঁশের সাঁকোটি এখন ২০ গ্রামের মানুষের মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত বন্যার সময় ভাঙা ব্রিজটি যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে তড়িঘড়ি করে ব্রিজের ওপর তৈরি করেছে বাঁশ-কাঠের সাঁকো। সাঁকোটি তৈরির ৬ মাস অতিবাহিত হলেও লোকজনের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য ওই স্থানে সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ফলে সেই কাঠ-বাঁশের সাঁকোটিও এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় নড়বড়ে সাঁকোটির ওপর দিয়েই প্রতিদিন হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, বেড়া, গারামারা, দক্ষিণ দীঘলকান্দি, উত্তর দীঘলকান্দি, পাতিলবাড়ী ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব আমদিরপাড়াসহ ওই এলাকার অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এমতাবস্থায় যেকোনো মুহূর্তে সাঁকোটি ভেঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পূর্ব আমদিরপাড়া বটতলা নামক স্থানে রাস্তার দু’পাশের পানি নিষ্কাষনের জন্য ১৯৯৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে দৈর্ঘ্য ১৯ মিটার একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিলো। নির্মাণকাজে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও নির্মাণসামগ্রী নিম্নমানের ব্যবহার করায় এবং কাজের মান সঠিক না হওয়ায় ব্রিজটি নির্মাণের ৫ বছরের মাথায় নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, তদারকি ও সংস্কার না করায় গত বন্যার পানির স্রোতে ব্রিজটি দেবে ভেঙে পড়ে এবং ব্রিজের দুই মাথার মাটি ধ্বসে গিয়ে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়। এতে দুপাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সহ এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে মুষ্টি চাল ও চাঁদা সংগ্রহ করে। ওই টাকায় তারা নিজেরা চলাচলের জন্য তড়িঘড়ি করে ভাঙা ব্রিজের ওপর বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি করে সাঁকো। তাতে কিছু দিন কোনরকমে চলাচল করা গেলেও বর্তমানে তা নড়বড়ে হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল শুরু করছেন এলাকাবাসী। কিন্তু সাঁকোর নিচের বাঁশের খুঁটিগুলো পুরাতন হওয়ায় অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে বাইক, ইজিবাইক অটোরিকশা, ভ্যান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাঁকোর নিচের বাঁশের খুঁটি গুলো যেকোনে মুর্হর্তে ভেঙ্গে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। তারপরও গন্তব্যে যেতে সাইকেল, রিকশা যাত্রী নামিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে লোকজন চলাচল করছেন। যার ফলে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের ভোগান্তিসহ দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে প্রতিদিন।
জুমারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এই পথ ধরে প্রতিদিন নড়বড়ে সাঁকোয় জীবনের ভয় ও ঝুঁকি নিয়ে আমরা চলাচল করছি।
স্থানীয় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ময়নুল ইসলাম বলেন, যাত্রী বা মাল বোঝাই ভ্যান নিয়ে সাঁকো পার হওয়া যায় না। যাত্রী বা মালামাল নামিয়ে পারাপার হতে হয়। খুব ভয় লাগে, কখন যে সাঁকো ভেঙে নিচে পড়ে যাই।
স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী প্রধান জানান, ব্রিজটি ভেঙে পড়ার বেশ কয়েক মাস পার হয়ে গেলো এখনো বিকল্প ব্যবস্থা হচ্ছে না। দুর্ঘটনার আগেই ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলীকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিউল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি ধ্বসে গেছে বন্যায়। ওই জায়গায় নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
বিডি প্রতিদিন/এএ