আগামী মাস (ফেব্রুয়ারি) থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা-উন্নয়ন জোট। হস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জোটের চেয়ারম্যান শিবলুল আজম কোরেশি। বক্তব্যে তিনি জানান, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং রাত্রিযাপন সীমিতকরণের সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী, এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সিদ্ধান্তকে তিনি আত্মঘাতী উল্লেখ করে বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে, স্থানীয়দের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে, এবং পর্যটন নির্ভর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে।’
তিনি আরও জানান, পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত করা না হলে জনজীবনে আর্থিক সংকট আরও গভীর হবে।
জোটের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেন। কিন্তু চলতি বছর পরিবেশ মন্ত্রণালয় পর্যটকদের সংখ্যা এবং ভ্রমণ সীমিত করার আদেশ জারি করে। এ আদেশ অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকরা রাত্রিযাপন করতে পারবেন না এবং ডিসেম্বর ২০২৪ ও জানুয়ারি ২০২৫-এ প্রতিদিন মাত্র ২,০০০ পর্যটক যেতে পারবেন। তবে, ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, যথাসময়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেওয়ায় নভেম্বর ২০২৪-এ কোনো পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি। এমনকি ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে পর্যটকরা ট্রাভেল পাস সংগ্রহের জটিলতায় পর্যাপ্ত সংখ্যায় ভ্রমণ করতে পারেননি। যার ফলে পর্যটননির্ভর সেন্টমার্টিনবাসী এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব), ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা, সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতি, ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই-ট্যাব), এবং সি-ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (স্কুয়াব)-এর নেতৃবৃন্দ। জোটের পক্ষ থেকে মানবিক বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল