উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে প্রত্যন্ত গ্রামের পুকুরে মিঠা পানিতেই এখন অন্যান্য মাছের সঙ্গে চাষ হচ্ছে গলদা চিংড়ি। এতে সফলতা পেয়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। গলদা চাষ সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে এ মাছ চাষ।
রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন- সরকারি-বেসরকারিভাবে গলদা চিংড়ি চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলায় ২৬ হাজারের অধিক পুকুরে সাড়ে ২০ হাজার চাষি মাছ উৎপাদন করছেন। রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকায় পল্লব চন্দ্র রায়ের ৪০ শতক জমির পুকুরে গলদা চাষ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরে জাল ফেলে চিংড়ি ধরছেন চাষিরা। স্থানীয়রা অবাক হয়ে দেখছেন বড় বড় সাইজের চিংড়ি। কিছুটা আশ্চর্য হওয়ার মতোই মিঠা পানিতে গলদা চাষ। রপ্তানিযোগ্য গলদা চিংড়ি চাষ এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে চাষিরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি কুড়িগ্রামের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা। গলদা চাষি পল্লব চন্দ্র রায় বলেন, ৮-১০টি চিংড়িতে এক কেজি হয়ে যায়।
বর্তমানে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তার লক্ষাধিক টাকা আয় হবে আশা করছেন। তিনি বলেন- সময় মতো খাবার ও সঠিক পরিচর্যা করায় মাছের ওজন ভালো হয়েছে। মাধবী রানী নামে একজন বলেন, নিজের পুকুরে দেশি মাছের সঙ্গে বাড়তি খরচ ছাড়াই গলদা চাষ করা হয়েছে। এ মাছের আকার যেমন ভালো হয়েছে খেতেও সুস্বাদু। আমরা অনেক খুশি। স্থানীয় স্বপ্না রানী বলেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে আমাদের গ্রামে আরও অনেক পুকুরে গলদা চাষ সম্ভব।