ব্রিটিশ আমল থেকে রেলওয়ে ফেরিসহ মানুষ পারাপারের জন্য বেশ সুপরিচিত ছিল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট। কিন্তু ২০০১ সালে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে ঐহিত্যবাহী ঘাটটি। যমুনা সেতুর ওপর চাপ কমাতে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পথে আবারও ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিটিএ। জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ও গাইবান্ধার বালাসী প্রান্তে নির্মাণ করা হয় ঘাটের অবকাঠামো। কিন্তু নাব্য সংকট দেখিয়ে এ রুটে ফেরি চলাচল সম্ভব নয় বলে জানায় বিআইডব্লিটিএর কারিগরি কমিটি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সবকিছু তৈরি হয়ে যাওয়ার পর কেন বলা হলো ফেরি চলাচল সম্ভব নয়। আগে কেন এ বিষয়ে সমীক্ষা করা হয়নি? সেইসঙ্গে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ কী? জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন যমুনা পাড়ি দিচ্ছে কয়েক জেলার হাজার হাজার মানুষ। যমুনা নদীর ২৬ কিলোমিটার পথ নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে এই দীর্ঘ ২৪ বছরে ঘটেছে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ১৯৩৮ সালে ব্রিটিশ সরকার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদঘাট এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাটে যমুনা নদীতে রেল ফেরি সার্ভিস চালু করে। সে সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহের জেলাগুলো ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁয়ে অল্প সময়ে এবং কম খরচে যাত্রী পারাপার, কৃষিপণ্য, ডিজেল, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করা হতো। ফেরিতে রেল গাড়ি পারাপারের জন্য কলিকাতাসহ দেশ-বিদেশে সুপরিচিত ছিল এই নৌপথ। যমুনা নদীর নাব্য সংকটের কারণে ১৯৯০ সালে তিস্তামুখ ঘাটটি সরিয়ে বালাসীঘাটে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ২০০১ সালে যমুনা সেতু চালুর পর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে ঐহিত্যবাহী ঘাটটি। সেসঙ্গে বেকার হয়ে পড়ে বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করা কুলি, শ্রমিক, হোটেল ব্যবসায়ী, কর্মচারীসহ অসংখ্য মানুষ। বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর আবারও বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটে ফেরি সার্ভির চালুর উদ্যোগ নেয় বিআরডব্লিটিএ। ২০১৭ সালে ১২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরে উদ্যোগ নেওয়া প্রকল্পটি পরবর্তীতে দুই দফা বাড়িয়ে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৪৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ছিল জমি অধিগ্রহণ, পার্কিং, ফেরিঘাট, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ। এ ছাড়াও বাহাদুরাবাদ-বালাসীঘাট রুটে নদী ড্রেডিং অন্তর্ভুক্ত ছিল এ প্রকল্পে। ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষ হয় এ প্রকল্পের কাজ। ফেরি রুট ড্রেজিংয়ের পর বিআইডব্লিউটিসির খালি ফেরি দুই দফা ট্রায়াল রান করতে গিয়ে নাব্য সংকটে আটকে যায়। সে সময় বিআরডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি দুইবার ঘাট পরিদর্শন করেন। নদীর নাব্য সংকট, দুই ঘাটের মধ্যে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দূরত্ব ফেরি চলাচলের জন্য অলাভজনক, ভুল স্থানে ঘাট নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটটি ফেরি চলাচলের উপযোগী নয় বলে জানায় ওই কারিগরি কমিটি। দেওয়ানগঞ্জ ইউএনও মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। এই টার্মিনাল সম্পর্কে আমি অবগত নই, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সময়ে জানাতে পারব।