বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলার দুবলারচরে শুঁটকিপল্লীতে দেখা দিয়েছে মাছ সংকট। মাছের ভরা গোন চললেও গভীর সাগরে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। এই সময়ে শুঁটকিপল্লী নানা প্রজাতির মাছে ভরপুর থাকার কথা অথচ বেশির ভাগ ভারা (মাঁচা) ও চাতাল খালি পড়ে আছে। কমেছে শুঁটকি উৎপাদন। লোকসানে শঙ্কায় রয়েছেন শুঁটকি উৎপাদনে জড়িতরা।
দুবলার আলোরকোল পুলিশ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, তাদের অধীনে রয়েছে আলোরকোল, মাঝের কিল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শ্যালার চর শুঁটকিপল্লী। এর আলোরকোল বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র। মাছ ধরতে না পারায় গত সপ্তাহে শুধু আলোরকোলেই ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে ১৬-১৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া মাঝের কিল্লা, নারকেলবাড়িয়া, শ্যালার চরে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি। শুঁটকি উৎপাদন কম হওয়ায় সপ্তাহে ১ থেকে সোয়া কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরল করীম বলেন, সাগরে মাছ ধরা পড়ছে খুব কম। যাও পাওয়া যাচ্ছে তা ছোট প্রজাতির। এতে মহাজনদের লোকসানের পাশাপাশি রাজস্ব আয়েও ব্যাপক ঘাটতি হবে। গত বছর শুঁটকি খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এবার ৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা পূরণ হবে না।
জেলে-মহাজনরা জানান, গত ৪ নভেম্বর শুরু হয়েছে দুবলার চরের শুঁটকি মৌসুম। শুরু থেকেই মাছ মিলছে কম। দামি মাছ যেমন লইট্যা, ছুরি, রূপচাঁদা, লাক্ষা এসব তেমন ধরা পড়ছে না। যা পাওয়া যায় তার বেশির ভাগই কম মূল্যের ছোট চিংড়ি, চ্যালা ও পারসে জাতীয় মাছ। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন দুবলার চরের বিশেষ টহল ফাঁড়ির অধীন চারটি চরের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন কম হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেবে মনে করছে বনবিভাগ। মাছ কম পড়ার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ধারণা বনবিভাগের। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধীরে ধীরে সাগরের গভীরতা কমছে। পরিবর্তিত হচ্ছে পানির গতিপথ। অন্যদিকে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় ঠিকমতো জাল ফলতে পারছেন না জেলেরা। মাছ কম হওয়ার এটিও একটি কারণ। আলোরকোল শুঁটকিপল্লীর জেলে রাজ্জাক ও বিপুল জানান, ২০-২৬ ডিসেম্বর আবহাওয়া খারাপ থাকায় সাগরে কোনো জেলে নামতে পারেননি। অন্য বছরের তুলনায় এবার মাছও পড়ছে কম। আলোরকোলের শুঁটকি ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ, হক বিশ্বাস, নাদিমুল ইসলাম ও আমানত আলী জানান, এ বছর শুঁটকি ব্যবসায় তারা একেক জন দেড় থেকে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। দুই দফা বৈরী আবহাওয়ায় মাছ ধরতে না পারা এবং সাগরে পর্যাপ্ত মাছ না পড়ায় চালান বাঁচাতে পারবেন কি না চিন্তায় পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এভাবে মাছের সংকট থাকলে লাভ দূরের কথা চালান টেকানো দায় হবে।