দেশে প্রদেশ গঠনের পক্ষে নয় স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। জেলা পরিষদ বিলুপ্ত না করে এটিকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছেন কমিশনের প্রধান ড. তোফায়েল আহমেদ। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে কমিশন ২১০টি সংস্কার প্রস্তাব দেবে বলে জানান তিনি।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জন-আকাক্সক্ষার আলোকে স্থানীয় সরকার’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরেন ড. তোফায়েল আহমেদ।
সংলাপের আয়োজন করে গভর্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও ইউএনডিপি। ড. তোফায়েল বলেন, আমরা প্রদেশ গঠনের পক্ষে নই। জেলা পরিষদ এখনকার মতো থাকবে না, তবে সেখানে জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিচারব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে নিম্ন আদালত উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন। বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবেও এ বিষয়টি রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে একটি কোর্ট থাকবে, যেখানে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলাগুলো আমলে নেওয়া হবে। সংলাপে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়। ড. তোফায়েল বলেন, অনেক সময় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। চেয়ারম্যান বা মেম্বারদের কাছে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করেন। স্থানীয় সরকারে সংকটের প্রথম কারণ দুর্নীতি। তরুণ ও শিক্ষিতদের নির্বাচিত করতে হবে।
সংলাপে গভর্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও দায়িত্ব বিভাজন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সব স্তরে সরাসরি ও নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন এবং কর-রাজস্ব ব্যবস্থার স্থানীয়করণ। স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত, স্থানীয় উন্নয়নের সব স্তরে জন-অংশগ্রহণ ও তৃণমূলের মানুষের অন্তর্ভুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। গভর্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম বলেছে, স্থানীয় পর্যায়ের জনগণের দাবি তুলে ধরতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫০টির অধিক নাগরিক সংগঠনের মতামত গ্রহণ করেছে তারা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনায় পাঁচটি সংলাপ আয়োজনের কথা বলেছে সংগঠনটি। এসব সংলাপে প্রায় ৪ শতাধিক অংশগ্রহণকারী তাদের মতামত ও সুপারিশ দিয়েছেন। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন কানিজ ফাতেমা এবং অনিরুদ্ধ রায়। মহসিন আলীর সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তব্য দেন- ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, কেয়ার বাংলাদেশের আমানুর রহমান ও অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।