বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে রাখা অজ্ঞাত সাত লাশের মধ্যে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে একজনের পরিচয় মিলেছে। তার নাম মো. হাসান (১৯)। তিনি রাজধানীর কাপ্তানবাজারের ইলেকট্রিক দোকানের কর্মচারী ছিলেন। এখনো আন্দোলনে নিহত এক নারীসহ ছয় লাশ ঢামেক মর্গে রয়েছে। অভ্যুত্থানে নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে দুই পরিবার এসেছিল ঢামেক মর্গে। এদের মধ্যে হাসানের পরিবার একটি লাশের দাবি করে। দেওয়া হয় ডিএনএর নমুনা। গতকাল সন্ধ্যায় তার পরিবার লাশ নেওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে। হাসানের বাবা মনির বলেন, ‘হাসান সেদিন বেলা ১টার দিকে আমাকে ফোন করেছিল। তাড়াহুড়া করে ফোনটি রিসিভও করেছিলাম। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তার কথা বুঝতে পারিনি।’ ‘আমি আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা বলতে পারিনি’, বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুলিশ বলছে, হাসানের লাশ যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ভোলা সদর উপজেলার বাগচির গ্রামের মনির হোসেন ও গোলেনুর বেগমের ছেলে হাসান। থাকতেন যাত্রাবাড়ীর সুতিখালপাড় বালুর মাঠ এলাকায়।
মনির হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা ৫ আগস্ট থেকে তাকে খুঁজছিলাম।
আমরা প্রায় সব হাসপাতাল, ক্লিনিক, কবরস্থান, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাইনি। তারপর ১২ জানুয়ারি আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ঢামেক মর্গে হাসানকে শনাক্ত করি।’
তিনি বলেন, ‘চার সন্তানের মধ্যে হাসান দ্বিতীয়। সে আমার বড় মেয়ের পরিবারের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর সুতিখালপাড় এলাকায় থাকত।’
হাসানকে ভোলায় তাদের গ্রামেই দাফন করা হবে। হাসানের বাবা ছেলে হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা হাসানের মৃতদেহ খুঁজে বের করে তাদের কাছে হস্তান্তরে সহায়তা করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, ৫ আগস্ট বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী যেখানে হাসান থাকতেন, সেখানেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার লাশ অন্যদের সঙ্গে ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের বিশেষ সেলের সম্পাদক হাসান এনাম বলেন, ‘আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর শহীদ হাসানের বাবা ক্রস-ম্যাচিংয়ের জন্য ডিএনএ নমুনা দিয়েছিলেন। এক মাস পর ১২ ফেব্রুয়ারি ডিএনএ ক্রস-ম্যাচিংয়ের ফল পজিটিভ আসে।’