প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি ‘হেইট থ্রু’ পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন। ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্ট্রডেন্টস রাইট ওয়াচ’ নামে একটি সংগঠন কর্মসূচিটি পালন করে।
‘হেইট থ্রু’ কর্মসূচিতে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকা বিনতে হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা হয়। এ সময় স্বৈরাচারের প্রতীক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিতেও জুতা নিক্ষেপ করা হয়।
যে কোনো প্রতিযোগী তিনবার জুতা নিক্ষেপ করে তিনবারই যে কোনো নেতার ছবিতে লাগাতে পারলেই পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি ‘মোজো’। জুতা নিক্ষেপের পাশাপাশি স্বৈরাচারের কবর রচনা হিসেবে সবগুলো ছবি পোড়ানো হয়।
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত পরিভাষা ‘গণরুম, গেস্টরুম, আধিপত্যবাদ, সিট পলিটিক্স, ভাইটাল প্রোগ্রাম এবং নব্য দাসপ্রথার’ প্ল্যাকার্ড পুড়িয়ে চিরতরে এগুলোর কবর রচনার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
জুতা নিক্ষেপ করার পর আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায়। বিগত বছরগুলোতে এই দিনে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করানো হতো।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে শিক্ষার্থীরা মুক্তির নিশ্বাস নিচ্ছেন।
বিগত বছরে শিক্ষার্থীদের জমানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজ এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক আলী বলেন, ছাত্রলীগের নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের এই ‘হেইট থ্রু’ কর্মসূচি। ইতিহাসের কলঙ্কিত এই দিনটিকে আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করেছি।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবি জোবায়ের বলেন, গত ১৬ বছরে নানা উপায়ে ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন করেছে। আজ আমরা ফ্যাসিবাদের কবর ঘোষণা করছি। ভবিষ্যতে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান যেন না ঘটে সেজন্য এই কর্মসূচিকে দৃষ্টান্ত হিসেবে রেখে যাচ্ছি।