রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আমলের শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার প্রত্যাহার ও শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘বাংলাদেশ গঠনতান্ত্রিক আন্দোলন এ সমাবেশ করে।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মী রাশেদ রাজন বলেন, আগামীকাল (বুধবার) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য যে ভাইভা ডাকা হয়েছে, সেটা কার্যকর হলে আমাদের বিজয় পরাজিত হবে। আওয়ামী ফ্যাসিজমের আমলে করা সার্কুলার সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনও শিক্ষক নিয়োগ হবে না। এটা জুলাই আন্দোলনে প্রতিশ্রুতি ছিল। বিগত সার্কুলারে যোগ্য, মেধাবী, পিএইচডিধারীরা কেউই আবেদন করেননি। কারণ তারা জানত এই সার্কুলারে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। অবিলম্বে সেই সার্কুলার প্রত্যাখান করতে হবে। না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী ফ্যাসিজম পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেন বলেন, বিগত সময়ে অর্থনৈতিক লেনদেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ এমন কোনও অনিয়ম নেই যেগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসন ঘটায়নি। আওয়ামী লীগ শাসনামলের সার্কুলারে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফ্যাসিবাদী দোসরদের আবার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিপ্লব পরবর্তী প্রশাসন আগের ফ্যাসিস্ট প্রশাসনের দেখানো পথেই হাঁটছে। অনতিবিলম্বে এই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় সার্কুলার ও নীতিমালা সংস্কার করে যোগ্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিন।
বাংলাদেশ গঠনতান্ত্রিক আন্দোলনের সংগঠক আশিকুল্লাহ মুহিবের সঞ্চালনায় সমাবেশ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগে স্থগিতাদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে নিয়োগ নীতিমালা শিথিল ও অবৈধভাবে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয় এবং নীতিমালা সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। নীতিমালা সংস্কার করায় গত বছর ২৫ জুলাই এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়।
নিয়োগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্প কিছু বিভাগের নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এই সমস্ত বিভাগের সম্মতিক্রমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রক্রিয়ার সমস্ত দিক বিবেচনায় নিয়েই আমরা শুরু করব। বেশিরভাগ বিভাগ পুরোপুরি প্রস্তুত না। তাদের রি-সার্কুলারে যেতে হবে। যারা প্রস্তুত তারাও চাইলে আবার সার্কুলার দিতে পারে। প্রত্যেকটি বিভাগকে এই ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। তবে নিয়োগের নামে পানি ঘোলা হতে দেব না।
বিডি প্রতিদিন/একেএ