ক্যারিয়ারের প্রথম ছয় ওয়ানডে মিলে রান মোটে ৮৭। নেই কোনো ফিফটি। সবশেষ তিন ইনিংসের দুটিতে শূন্য রানে আউট হওয়ার তেতো অভিজ্ঞতা। প্রথমবার ওপেনিংয়ে খেলার চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে ব্রায়ান বেনেট উতরে গেলেন খুব ভালোভাবে। চমৎকার ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের তরুণ ব্যাটসম্যান খেললেন দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস, গড়লেন দারুণ কীর্তি।
হারারেতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শুরু করতে নেমে ১৬৩ বলে ১৬৯ রান করেন বেনেট। তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির ইনিংসটি গড়া ২০ চার ও ৩ ছক্কায়। এই সংস্করণে জিম্বাবুয়ের হয়ে পঞ্চম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এটি। জিম্বাবুয়ের হয়ে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস আছে মোট পাঁচ জনের। তাদের মধ্যে বেনেটের চেয়ে কম বয়সে দেড়শ ছুঁতে পারেননি আর কেউ।
সব দেশ মিলিয়ে এই তালিকায় বেনেট আছেন চতুর্থ স্থানে। ২১ বছর ৯৬ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন ক্রিস গেইল, ভিরাট কোহলি, শুবমান গিলের মতো তারকাদের। গেইল আছেন এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে। ২০০১ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে তিনি ১৫২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ২১ বছর ৩২৮ দিন বয়সে। তার ২৫ ওয়ানডে সেঞ্চুরির মধ্যে সেটা প্রথম। ২০২৩ সালে হাম্বানটোটায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ বছর ২৬৯ দিন বয়সে ১৫১ রান করে পাঁচে আছেন আফগানিস্তানের রাহমানউল্লাহ গুরবাজ।
কোহলি আছেন নবম স্থানে। ২০১২ সালে মিরপুরে এশিয়া কাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ায় ১৮৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি ২৩ বছর ১৩৪ দিন বয়সে। আটে আছেন কোহলির স্বদেশি গিল, ২০২৩ সালে হায়দরাবাদে ২৩ বছর ১৩২ দিন বয়সে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৮ রান করেছিলেন তিনি। ওয়ানডেতে সবচেয়ে কম বয়সে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি সেটি। বেনেটের ঠিক ওপরে তিনে আছেন আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান। ২০২২ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি ২০ বছর ৩৫৩ দিন বয়সে।
দুইয়ে আছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ওপেনার ২০০৯ সালে বুলাওয়ায়োতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৪ রান করেন ২০ বছর ১৪৯ দিন বয়সে। তখন এটিই ছিল বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। চূড়ায় আছেন আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং। ২০১০ সালে কানাডার বিপক্ষে ১৭৭ রানের ইনিংস খেলার সময় তার বয়স ছিল ২০ বছর ৪ দিন। সবচেয়ে বেশি বয়সে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলার কীর্তি গেইলের। ২০১৯ সালে গ্রানাডায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি ৩৯ বছর ১৫৯ দিন বয়সে।
বেনেটের আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৭। আগের ছয় ওয়ানডের চারটিতে ব্যাটিং করেছিলেন সাত নম্বরে, একটিতে ছয়ে, একটিতে তিনে। গত ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে তার স্কোর ছিল ০, ০ ও ৯। এবার ওপেনিংয়ে নেমেই ব্যর্থতার খোলস ছেড়ে বের হলেন তিনি। এদিন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি ১১৭ বলে। ১৫৫ বলে পা রাখেন দেড়শতে। শেষ ওভারে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় দুর্দান্ত ইনিংসটি।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ