অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তরুণ হলেও তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ায় ক্রীড়ামোদীরা আশায় ছিলেন দুর্নীতি ও অনিয়মে বন্দি থাকা ফেডারেশনগুলোয় যোগ্য লোকই বসবেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি আনতে ক্রীড়া উপদেষ্টা সার্চ কমিটি গঠন করেন; যা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রথম ঘটনা। বাফুফে ও বিসিবিতে হাত দেওয়া সম্ভব নয়। সার্চ কমিটির দায়িত্ব ছিল গতি ফিরিয়ে আনতে অন্যান্য ফেডারেশন বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা। এ কমিটি পরবর্তীতে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত কমিটি গঠন করবে। ১৪ নভেম্বর সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নয়টি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।
প্রায় আড়াই মাস পর গতকাল আরও সাত ফেডারেশনের কমিটি গঠন করা হয়। ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকুকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া এখানে কোনো চমক নেই। যাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে, তাদের অনেকে বিতর্কের বাইরে নন। সাঁতার, টেবিল টেনিস, ফেন্সিং, ভারোত্তোলন, কারাতে, ভলিবল ও শরীর গঠন ফেডারেশনের নতুন কমিটি হয়েছে। সার্চ কমিটি কর্মকর্তা ঠিক করে দিলেও প্রজ্ঞাপন ঘোষণা করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাহবুবুর রহমান শাহীন। তিনি এর আগেও এ পদে ছিলেন। টেবিল টেনিসে ১৭ সদস্যের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ। আগের কমিটির বিতর্কিত সংগঠক খন্দকার হাসান মুনীর অ্যাডহক কমিটির সহসভাপতি হয়েছেন। প্রকৌশলী এম এইচ জামানকে সভাপতি করা হয়েছে। দুই দশক থেকে পদ ধরে রাখা ভলিবলে মিকুর জায়গায় সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বিমল ঘোষ। ফারুক হাসান সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। কারাতে ফেডারেশনে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আগের কমিটির সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। সভাপতি হয়েছেন সাহাজাদা আলম।
দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক থাকা উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি হয়েছেন। লে. কর্নেল মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক। শরীর গঠন ফেডারেশনের সভাপতি হয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি, পিবিআইপ্রধান মোস্তফা কামাল। সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম।