রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তল্লাশির নামে সোনা ছিনতাই চক্রের নেপথ্যে রিপন সরকার নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার (এসআই) সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা জেলা ডিবিতে কর্মরত। জানা গেছে, রিপন সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন পুলিশের সাবেক কনস্টেবল মামুনুর রশিদ। তিনি রাজধানীর কাফরুলে বর্ষণ ফোর্স সিকিউরিটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের কাজ করেন। ডিবি পরিচয়ের আড়ালে তিনি নানা অপকর্মও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা থানার একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সোনা ছিনতাই চক্রের নেপথ্যে থাকা রিপন সরকারের খোঁজ পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগ। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, গত বুধবার রিপনকে গ্রেপ্তার করে আনা হয়। এরপর তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সোনা ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ছিনতাই করার ঘটনা স্বীকার করেছেন। সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কুমিল্লা থেকে রিপন আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিপন সরকারের বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। তিনি এলাকায় নিজেকে পুলিশ সুপার (এসপি) পরিচয় দিতেন। চলাফেরা করতেন দামি গাড়িতে। নিজ গ্রামে নামে-বেনামে গড়েছেন বিপুল সম্পদ। টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলায়ও রয়েছে তার সম্পদ। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে রয়েছে ফোন এক্স ও অ্যাপল হাটসহ চারটি দোকান। একটি তার ছোট ভাই পরিচালনা করেন। অপর দোকানগুলো পরিচালনা করেন ম্যানেজার রেখে।
ডিবি রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, একজন ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসতেছিলেন। তখন তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা ৩০ ভরি সোনা নিয়ে নেয় তারা। এরপর তাকে রাজধানীর রমনা এলাকায় ফেলে চলে যায়। থানায় অভিযোগ করার পর যে গাড়িতে ওই ব্যবসায়ীকে তোলা হয় বিভিন্ন ফুটেজ থেকে গাড়ির চালককে চিহ্নিত করেন তিনি। পরে সালাম নামের ওই চালককে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে পুলিশ কনস্টেবল মিজানকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যেই রিপনের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে।
জানা যায়, এই চক্রের নেটওয়ার্ক অনেক বড়। গত বছরের ১৬ জুলাই আরিচা ঘাট থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৭০ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের নেপথ্যে ছিল একই চক্র। এর আগে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই সকালে গাবতলীতে টাঙ্গাইলগামী বাস ধরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁতীবাজারের স্বর্ণ দোকানের কর্মচারী টিটু প্রধানিয়া। তার কাছে স্কুলব্যাগের মধ্যে বিশেষভাবে মুড়িয়ে রাখা প্যাকেটে ৩৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিল। বাসে ওঠার আগে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যক্তি টিটুর পথরোধ করে ব্যাগের ভিতরে কী, তা জানতে চান। স্বর্ণালংকার রয়েছে এটা জানানোর কিছু সময় পরপরই অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজন ডিবি পরিচয়ে এ সময় যোগ দেয়। তেজগাঁও থানায় নেওয়ার কথা বলে একটি মোটরসাইকেলে তাঁকে তুলে বেড়িবাঁধে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর সিএনজি অটোরিকশায় তুলে তাকে বিজয় সরণিতে আনা হয়। বিজয় সরণির ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি আটকা পড়লে দ্রুত স্বর্ণালংকারভর্তি ব্যাগ নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ওই দিন মধ্যরাতে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা দারুস সালাম পুলিশকে অবহিত করেন টিটু। তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গেও রূপনগর থানার এএসআই জাহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে।