ঢাকার বাস সেবাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার জন্য বাস রুট রেশনালাইজেশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৬ সালে। তিন রুটে চালু হওয়ার পর পরিবহন মালিকদের রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ বাসের দৌরাত্ম্যে উদ্যোগটি আলোর মুখ দেখেনি। নতুন করে আবার আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রিন ক্লাস্টারের (সবুজ গুচ্ছ) ৬টি রুটে ঢাকা নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ নেয় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। কিন্তু পরিবহন মালিক সমিতি ও ডিটিসিএর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগটি এখন ভেস্তে যাওয়ার পথে!
জানা গেছে, ২০১৬ সালে প্রথম চিন্তা করা হয় ঢাকার বাসগুলোকে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির আওতায় আনার। এরপর ২০১৮ সালে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রকে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় ঢাকা উত্তর সিটির মেয়রকে। সেই কমিটি প্রায় পাঁচ বছর কাজ করলেও কোনো ফল আসেনি। তবে বাস রুটের সংখ্যা বেড়েছে। এদিকে বিগত সরকারের টানা ১৫ বছরে বাস মালিকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ঢাকার বেশির ভাগ বাসের মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল। এতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়ে। ২৭টি সভা হলেও সেখানে মালিকপক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসেনি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই প্রকল্প সফল করতে চায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা যায়, ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ নামে এক কোম্পানির আওতায় আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাস চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে শুরুতেই পুরো রাজধানীতে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বাস রুট রেশনালাইজেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকাজুড়ে যে ৯টি ভিন্ন রঙের বাস চলার কথা রয়েছে, তার মধ্যে গ্রিন ক্লাস্টার (সবুজ গুচ্ছ) চালু হচ্ছে প্রথমে। সেখানেও কাজ অসম্পূর্ণ। গ্রিন ক্লাস্টারের জন্য নির্ধারিত আটটি রুটের মধ্যে ছয়টি রুটে আপাতত ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ চালানো হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, গ্রিন ক্লাস্টারের চলাচলের জন্য মোট ৪০টিরও অধিক বাস কোম্পানির আবেদন আসে। এর মধ্যে ১২টি কোম্পানিকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব তথ্যাদি বিআরটিএ ও জরিপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা, কাউন্টার, যাত্রী ছাউনি এবং সুনির্দিষ্ট একটি ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বলেন, সড়ক পরিবহন উপদেষ্টার প্রচেষ্টা এবং আগ্রহে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা নগর পরিবহনের গ্রিন ক্লাস্টার অংশ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার (আজ) সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ও ডিটিসিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প নিয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থানে নেই ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তাদের দাবি, এক কোম্পানির আওতায় বাস চালানোর পরিকল্পনার শর্তাবলি বা মালিকদের সুবিধা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখনো পরিষ্কার নয়। বাস মালিকরা অভিযোগ করছেন, ডিটিসিএর পরিকল্পনায় ব্যক্তিগত বাস যুক্ত হলে সেগুলোর অনেকগুলো ফিটনেস ইস্যুতে বাদ পড়তে পারে। আর নতুন বাস কেনার জন্য কোনো সরকারি সহায়তার আশ্বাসও তারা পাননি।
এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, তারা বলছেন এক কোম্পানি। এখন একটি সড়কে কয়েক মালিকের বাস চলে। সব মালিক এক ছাতার নিচে আসতে চান না। এজন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা পরিবহন মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আবদুল্লাহপুর থেকে সাইনবোর্ড, সদরঘাট সড়কে যে বাসগুলো চলে, সেগুলো কাউন্টার সিস্টেম করা হবে। নির্দিষ্ট কাউন্টারে টিকিট কেটে যাত্রীরা বাসে উঠবেন। কাউন্টারের বাইরে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি এই রুটের যাত্রা শুরু হবে। এরপর মিরপুর থেকে মতিঝিল, গাবতলী থেকে নিউমার্কেট সড়কে পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এটা নিয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কাজ শুরু করছি।