‘দ্বিন’ ইসলামে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। পবিত্র কোরআনে একাধিক অর্থে এই শব্দের ব্যবহার দেখা যায়। পাশাপাশি হাদিসেও বিভিন্ন অর্থে দ্বিন শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। এখানে ১০টি অর্থে দ্বিন শব্দের ব্যবহার দেখানো হলো-
১। বাধ্য, পরাভূত ও কর্তৃত্ব : যেমন রাসুল (সা.)-এর বাণী, ‘বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি, যে তার নফসকে পরাভূত বা বাধ্য করেছে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৯)।
২। বিচার করা ও মীমাংসা করা : যেমন জনৈক ব্যক্তিকে আলী (রা.) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, নবী করিম (সা.)-এর পর তিনি এই উম্মতের সবচেয়ে বড় বিচারক ছিলেন। (লিসানুল আরব, ১৩ম খণ্ড, পৃ. ১৬৯)।
৩। দাসত্ব করা, কারো বশীভূত হওয়া এবং কারো নির্দেশাধীন হওয়া : যেমন রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কুরাইশকে এমন এক বাক্যের অনুবর্তী করতে চাই, তারা তা স্বীকার করে নিলে সমগ্র আরব তাদের বশীভূত হবে এবং অনারবরা তাদের জিজিয়া প্রদান করবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩২৩২)।
৪। নিকটবর্তী হওয়া : যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘অতঃপর লোকটি যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটবর্তী হলো।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ কিতাবুল ইমান (রিয়াদ : দারুস সালাম, ১৯৯৯ খ্রি.), হাদিস : ৮]।
৫। শরিয়ত, আইনকানুন, পথ-পন্থা, ধর্ম-মিল্লাত, রসম ও প্রথা : যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘কুরাইশ ও যারা কুরাইশদের মতো পথের অনুসারী ছিল। ’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনাম (রিয়াদ : দারুস সালাম, ১৯৯৯ খ্রি.), হাদিস : ১৯১০]। রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘দ্বিন হলো সহজ।’ (সুনানুন নাসাঈ, হাদিস : ৩৮)।
৬। দ্বিন ইসলাম অর্থ : যেমন রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক এক শ বছরের মাথায় আল্লাহা তাআলা এ উম্মতের জন্য এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন, যিনি তাদের দ্বিনকে সংস্কার করবেন।’ (সুনানু আবি দাউদ, হাদিস : ৪২৯১) ।
৭। শাসনব্যবস্থা ও কর্তৃত্ব : যেমন রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই দ্বিন (শাসন, কর্তৃত্ব) কুরাইশদের মধ্যে থেকে ১২ জন খলিফার যুগ পর্যন্ত শক্তিশালী হয়ে থাকবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৭২২২)।
৮। মতাদর্শ বা মতবাদ : যেমন রাসুল (সা.) বলেন, ‘আরব উপদ্বীপে দুটি মতাদর্শ (দ্বিন) একত্র হতে পারে না।’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ৪৬১৭)।
৯। ভালো কাজ ও উত্তম রীতি : যেমন রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ভালো কাজ ধারাবাহিকভাবে করা হয় তা-ই আল্লাহর কাছে অধিকতর প্রিয়।’ (সহিহুল বুখারি, প্রথম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, হাদিস : ৪৩)
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ