টানা দ্বিতীয়বার বিপিএলের শিরোপা জিতেছে ফরচুন বরিশাল। টানা দ্বিতীয়বার অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার তামিম গতকাল বরিশালকে চ্যাম্পিয়ন করতে ২৯ বলে ৫৪ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন। তাঁর ম্যাচ জেতানো ইনিংসে ইতিহাস লিখেছে ফরচুন বরিশাল। ইতিহাস লিখেছেন তামিম। চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল প্রাইজমানি জিতেছে আড়াই কোটি টাকা। রানার্সআপ চিটাগং কিংস পেয়েছে দেড় কোটি টাকা। ফাইনাল-সেরা হয়েছেন বরিশাল অধিনায়ক তামিম এবং টুর্নামেন্ট-সেরা হয়েছেন খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মেহেদি মিরাজ। বিপিএলের সেরা ফিল্ডার হয়েছেন মুশফিকুর রহিম, এমার্জিং ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম, সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মোহাম্মদ নাঈম শেখ এবং সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তাসকিন আহমেদ।
টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হতে ফরচুন বরিশালের দরকার শেষ ওভারে ৮ রান। ছোট্ট টার্গেট আটকাতে চিটাগং কিংসের বোলিং করবেন কে? সতীর্থদের সঙ্গে অনেকটা সময় পরামর্শ করে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন বল তুলে দেন দলের পাকিস্তানি পেসার তালাত হুসেনের হাতে। তালাতের ওভারের প্রথম বলে লং অনে ছক্কা মারেন রিশাদ হোসেন। ম্যাচ পুরোপুরি হেলে পড়ে বরিশালের দিকে। পরের বলে প্রান্ত বদল করেন রিশাদ। রান দুই দলের সমান। জয়ের জন্য ৪ বলে দরকার ১ রান। তৃতীয় বলে কোনো রান নিতে পারেননি তানভির ইসলাম। চতুর্থ বলটি শর্ট করেন তালাত। রিশাদ ও তানভির দ্রুত প্রান্ত বদল করার আগে আম্পায়ার গাজী সোহেল ওয়াইড বলের সংকেত দেন। ওই রানেই চ্যাম্পিয়নশিপ অক্ষুণœ রাখে ফরচুন বরিশাল। আম্পায়ার কলের সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের ক্রিকেটাররা শিরোপা জয়ের বিজয়ানন্দে মাঠে ঢুকে পড়েন। ৩ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল। একই সঙ্গে বরিশাল নাম লেখায় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পাশে। দল তিনটি টানা দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিপিএলে। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ২০১২ ও ২০১৩ সালে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স টানা চ্যাম্পিয়ন হয় ২০২২ ও ২০২৩ সালে। অধিনায়ক হিসেবে টানা শিরোপা জিতেছেন তামিম, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ইমরুল কায়েশ।
ফাইনাল ফাইনালের মতোই রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। ব্যাটাররা চার, ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন। চিটাগংয়ের ব্যাটাররা চার মেরেছেন ১৫টি এবং ছক্কা ১০টি। ১৯৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে বরিশালের ব্যাটাররা চার মেরেছেন ১৮টি এবং ছক্কা ৬টি।
টস হেরে গতকাল সন্ধ্যার ফাইনালে ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৪ রান করে চিটাগং কিংস। দলটির দুই ওপেনার খাজা নাফে ও পারভেজ হোসেন ইমন ১২.৪ ওভারে ১২১ রানের জুটি গড়েন; যা চলতি বিপিএলে ১৫তম শতরানের জুটি এবং উদ্বোধনী জুটিতে দ্বিতীয়। নাফে ও পারভেজ উভয়েই হাফ সেঞ্চুরি করেন। নাফে ৪৪ বলে ৬৬ এবং পারভেজ ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ৪৯ বলে। ১৯৫ রানের টার্গেট। ফাইনাল-সেরা তামিম ও তাওহিদ হৃদয় ৮.১ ওভারে ৭৬ রান করে শিরোপা জয়ের ভিত দেন। তামিম ১৮৬.২০ স্ট্রাইক রেটে ৫৪ রানের ম্যাচসেরা ইনিংসটি খেলেন মাত্র ২৯ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায়। হৃদয় ৩২ রান করেন। বিপিএলের গত আসরের ফাইনাল-সেরা কাইলি মেয়ার্স ৪৬ রান করেন ২৮ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায়।