জাকাত কালেকশন করে ৪৮টি কাপড় ও ১৩টি লুঙ্গি পেয়ে বিপাকে আকলিমা ও তার স্বামী। এত কাপড় ও লুঙ্গি দিয়ে কী করবে? বিক্রিও হচ্ছে অর্ধেক দামে। বিক্রি করতেই হবে, কেননা ঘরে চাল, সেমাই-চিনি ও বাচ্চাদের জন্য ঈদের কাপড় এখনো কেনা হয়নি। তাই কম দামে বেচে আবারও লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এভাবেই লাইনে দাঁড়ায় সর্বসময়। আজ জাকাত বিতরণ ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। ধনীরা মাইকিং করে সিরিয়াল দিয়ে নগদ ১০০ বা ২০০ টাকার কাপড়-লুঙ্গি দিয়ে বিদায় করছে অসহায়দের। আবারও এই জাকাতের জন্য লম্বা লাইন, হইহুল্লোড়ে পুরো এলাকায় জানাজানি। আজ অমুক ব্যক্তি জাকাত দিচ্ছে। বাহ কী নামডাক। জাকাত দানের মাধ্যমে এলাকায় জনপ্রিয়তা ভালোই। ছবি, ফেসবুক, ইউটিউবে রয়েছে বেশ প্রচার-প্রচারণা। ভাবভঙ্গি ও ব্যবহারে বোঝায় নিজের ব্যক্তিগত টাকা কাউকে দিচ্ছে। অথচ আমাদের মনে রাখা জরুরি যে ‘জাকাত ধনী পক্ষ থেকে দান বা অনুগ্রহ নয়। বরং গরিবের অধিকার। তাই জাকাত পরিশোধ করা বিত্তবানদের অপরিহার্য কর্তব্য বা ফরজ। আল্লাহতায়ালা নিজেই জাকাতকে ধনীদের সম্পদে অসহায় ও বঞ্চিতদের অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, আর তার ধনদৌলতে বঞ্চিত ও প্রার্থীদের অধিকার রয়েছে (সুরা জারিয়াত-১৯)।’
জাকাত কৃপণ ও লোভী ব্যক্তিদের প্রদান করতে কষ্ট হয়। কেননা লোভ ও কৃপণতা মানুষের আন্তরাত্মাকে সংকীর্ণ, সংকুচিত ও অপবিত্র করে। জাকাত শব্দের অর্থ জবাই করা, প্রাচুর্য ও পবিত্রতা। পক্ষান্তরে জাকাত মানুষের সংকীর্ণতাকে ধুয়েমুছে পরিচ্ছন্ন করে দেয় আর তার অন্তরকে করে দেয় মুক্ত মহান। আর যারা কৃপণতা ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হতে পারবে, তারাই সফলকাম মানুষ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হতে পারবে তারাই কল্যাণ লাভ করবে (সুরা হাশর-৯)।’ মেয়ের বিয়ে দিতে না পারায় ও ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য বৃদ্ধ বয়সে কাজ করেন বাবা। সুদে টাকা এনে একটি গরু লালনপালন করে বড় করে কোরবানিতে বিক্রির আশা করছে কতজনের পরিবার। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করছে। সারা দিন কাজ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় বৃষ্টিতে ভিজে যায় অনেকের বিছানা। কিন্তু মাথার ওপরে টিন দেওয়ার টাকাও নেই। ওষুধের টাকা জোগাতে কষ্ট হয় কত পরিবারের সন্তানদের। ইফতার ও সাহরিতে কতজনে কষ্ট করে রোজা রেখেছে যা আমরা জানি না।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক