কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে খতনার অনুষ্ঠানে মাংসের বদলে বারবার ঝোল দেওয়া নিয়ে খাবার পরিবেশকদের সঙ্গে আমন্ত্রিতদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাটি অবশেষে দুপক্ষের বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়াসহ সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজার, চায়ের দোকানসহ পাড়া মহল্লায় মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়েছে। ঘটনাটি সবখানে ব্যাপক ভাইরাল ও সমালোচনার জন্ম দেওয়ায় শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উভয়পক্ষ সামাজিকভাবে বৈঠক করে মিটমাট করে নিয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
শনিবার দুপুরে কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক মো. সোহাগ শিকদার বলেন, মাংসের বদলে ঝোল দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খতনা অনুষ্ঠানে নিজেরাই একে অপরের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরসহ অন্তত ৪ জন আহত হন। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হওয়ায় সামাজিকভাবে বৈঠক করে মিটমাট হয়েছে বলে থানা পুলিশকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের রাশিদুল ইসলামের ছেলে রাফির খতনার অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে অন্তত ৩০০ জন স্বজন ও প্রতিবেশীর আমন্ত্রণ করা হয়। বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে সাজানো প্যান্ডেলে খাওয়া দাওয়া চলছিল। সেখানে প্রতিবেশি আকবরের স্ত্রী, দুই সন্তান শান্ত ও চান্নুসহ তার পরিবারের অনন্ত ৮ জন এক টেবিলে খাচ্ছিলেন। সেখানে খাবার পরিবেশক ছিলেন রাফির মামা শহিদুল। সেসময় চান্নু ঝোলের মাংসের গামলা বদল করে ভাল মাংস আনতে বলেন।
শহিদুল কয়েকবার গামলা বদল করে দেন। তবে প্রত্যেকবার গামলায় অতিরিক্ত ঝোল থাকা নিয়ে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। বাগবিতণ্ডায় এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এতে আকবরের ছেলে মাহফুজুর রহমান শান্ত (২০) ও চান্নু হোসেন (৩৫), আব্দুর রশিদের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৫), ইয়াকুবের ছেলে জামিরুল (১৯) নামে চারজন আহত জন।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল