কলাপাড়ায় সব শ্রেণির মানুষের কাছে পরিচিত গোল গাছ নামে গোল হলেও এ গাছের পাতা দেখতে কিছুটা নারিকেল পাতার মতো। প্রতিটি গাছের পাতাসহ উচ্চতা ১২-১৫ ফুট। ফুল হয় হলদে বর্ণের। ফল (গাবনা) পরিপক্ব হলে তালগাছের আঁটির মতো কেটে শাস খাওয়া যায়। প্রকৃতি নির্ভর পাম জাতীয় এ গাছের জন্ম নোনা জলে। এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সবই নোনা। ডগা থেকে বেরিয়ে আসছে ফোঁটা ফোঁটা সুমিষ্ট রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড় (মিঠা)। সুস্বাদু এই গুড়ের চাহিদাও ব্যাপক। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে চাষিরা রস সংগ্রহ করতে ছোটেন গোলবাগানে। কেউ কলস কিংবা বালতি নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ রসভর্তি কলস-বালতি নিয়ে ফিরছেন বাড়ি। গোলের রস গৃহবধূরা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে ঢোঙ্গায় রাখেন। এরপর তাফালে জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন গুড়। ওই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে চোখে পড়ে গুড় তৈরির দৃশ্য।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, দেশে বাণিজ্যিকভাবে যেকটি উপজেলায় গোলের গুড় উৎপাদন হয় তার মধ্যে কলাপাড়া অন্যতম। এখানে লক্ষাধিক গোল গাছ আছে। যা থেকে চাষিরা বছরে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন করেন। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। গোলের গুড় জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আবেদন পাঠিয়েছি। চাষিদের গুড় উৎপাদন এবং বোতলজাতকরণে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নবীপুর গ্রামের গোল গাছ চাষি মনোস শিকারী জানান, তারা অগ্রহায়ণ থেকে চৈত্র মাসের শেষ পর্যন্ত গোল গাছের সর সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদন করেন। এ বছর তার বাগানে ২০০ ছড়া গাবনা (গোলের ফল) হয়েছে। তা থেকে তিনি প্রতিদিন পাঁচ কলস রস পান। এ থেকে গড়ে প্রতিদিন ১৫ কেজি গুড় উৎপাদন হয়।