চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া আবদুল বারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রায় ১১০০। প্রধান শিক্ষকসহ অনুমোদিত শিক্ষক পদ ১১টি থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন নয়জন। তবে এ স্কুলে এমন চিত্র থাকলেও অনেক স্কুলের চিত্র আরও করুণ। চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জেলায় প্রধান শিক্ষক নেই ৪ হাজার ৪৩৯ বিদ্যালয়ে। আর সহকারী শিক্ষক নেই ৬ হাজার ৭৩৬ জন। চট্টগ্রামের বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটের কারণে জোড়াতালি দিয়ে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চট্টগ্রাম বিভাগীয় সূত্র জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জেলায় প্রধান শিক্ষক শূন্য রয়েছে ৪ হাজার ৪৪২ বিদ্যালয়ে। তার মধ্যে চট্টগ্রামে ৮১৪, কক্সবাজারে ৩৫৯, রাঙামাটিতে ৩৫২, বান্দরবানে ১৬৬, খাগড়াছড়িতে ১৯২, চাঁদপুরে ৩৬১, লক্ষ্মীপুরে ২২৩, নোয়াখালীতে ৪৫৬, ফেনীতে ২২১, বি-বাড়িয়ায় ৩৫৫ ও কুমিল্লায় ৯৪০টি। সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৩৮, কক্সবাজারে ৪১২, রাঙামাটিতে ৬০২, বান্দরবানে ৪৩ ও খাগড়াছড়িতে ২৪৩, চাঁদপুরে ৬৩৩, লক্ষ্মীপুরে ৪২৮, নোয়াখালীতে ৬৪৪, ফেনীতে ২৭৩, বি-বাড়িয়ায় ৬৯৫ ও কুমিল্লায় ১ হাজার ৪২৪টি।
শিক্ষাবিদদের মতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষ ও সহকারী শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি রেখে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এতে একাডেমিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হবে, তেমন প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়বে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ খালি থাকলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে না। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদ পূরণ করা আবশ্যক। সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্কুলের দাপ্তরিক কাজ সামলে ক্লাস নেওয়া, ক্লাস মনিটরিং করা, রিপোর্ট তৈরি, আবার স্কুলের কাজে শিক্ষা অফিসে দৌড়াদৌড়ি রুটিন কাজ হয়ে গেছে। একসঙ্গে সব সামলানো কষ্টকর। আর চলতি দায়িত্ব হওয়ায় অন্য শিক্ষকরাও তেমন মানতে চান না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আবদুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদের শূন্যপদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ও অবগত আছেন। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত হাই কোর্টের একটি রায় হয়েছে, সেটি সমাধান হলে স্পষ্ট হবে কবে নাগাদ এ সংকট নিরসন হবে। হয়তো নিয়োগপ্রাপ্তরা যোগদান করবেন না না হয় নতুন নিয়োগ হবে হয়তো।